বিশ্বজুড়ে বাণিজ্যনীতি নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ফের মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার তার আক্রমণের লক্ষ্য সেইসব দেশ, যারা আমেরিকার প্রযুক্তি সংস্থাগুলির উপর ‘ডিজিটাল ট্যাক্স’ বা ডিজিটাল পরিষেবা কর আরোপ করেছে। সোমবার এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ট্রাম্প স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যদি এই দেশগুলি তাদের ‘বৈষম্যমূলক’ আইন বাতিল না করে, তাহলে তাদের প্রোডাক্টের ওপর ‘অতিরিক্ত শুল্ক’ বসানো হবে এবং আমেরিকার ‘Highly Protected Technology ও Chips’ রপ্তানিতেও নিষেধাজ্ঞা আনা হবে।
কারা পড়ছে নিশানায়?
বিশেষত ইউরোপের বেশ কিছু দেশ ডিজিটাল সার্ভিস প্রদানকারী মার্কিন টেক জায়ান্টদের বিক্রয় আয়ের উপর ট্যাক্স বসিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে Alphabet-এর Google, Meta-এর Facebook, Apple এবং Amazon। দীর্ঘদিন ধরেই এই বিষয়টি US Administration ও ইউরোপীয় দেশগুলির মধ্যে বাণিজ্যিক অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ট্রাম্পের স্পষ্ট সতর্কতা
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছেন – “এই সত্যের সঙ্গে আমি জানাচ্ছি, যেসব দেশে Digital Taxes, Legislation, Rules বা Regulations কার্যকর রয়েছে, তারা যদি এই বৈষম্যমূলক আইন তুলে না নেয়, তবে আমি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে সেই দেশের রপ্তানি পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক চাপাব। পাশাপাশি আমাদের Highly Protected Technology ও Chips রপ্তানির উপরও কড়া নিয়ন্ত্রণ জারি করব।”
তিনি আরও দাবি করেন, এসব আইন আসলে American Technology-কে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে তৈরি হয়েছে, যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ চিনের সংস্থাগুলিকে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
আগেও ছিল শুল্কের হুমকি
এর আগে কানাডা ও ফ্রান্সের মতো দেশকেও ডিজিটাল ট্যাক্স ইস্যুতে শুল্ক চাপানোর হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেই তিনি তার Trade Chief-কে নির্দেশ দেন, যেসব দেশ মার্কিন টেক সংস্থার উপর ডিজিটাল ট্যাক্স আরোপ করছে, তাদের আমদানির উপর নতুন করে শুল্ক বসানোর তদন্ত শুরু করতে।
আন্তর্জাতিক মহলে এই সিদ্ধান্ত নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি করতে পারে। কারণ ইউরোপীয় দেশগুলি স্পষ্ট জানিয়েছে, ডিজিটাল সার্ভিস ট্যাক্স তাদের অর্থনীতির স্বার্থ রক্ষার জন্য জরুরি। অন্যদিকে, ট্রাম্প মনে করছেন, এসব আইন সরাসরি মার্কিন টেক সংস্থা-র বিরুদ্ধে বৈষম্য। ফলে একদিকে বাণিজ্য যুদ্ধ বাড়বে, অন্যদিকে প্রযুক্তি বাজারে চিন আরও বড় সুবিধা পেতে পারে।
এটি একটি বড় কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক ইস্যুতে পরিণত হচ্ছে, যা আগামী দিনে আমেরিকা-ইউরোপ সম্পর্কের উপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।