টেক ডেস্কঃ হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL) ২০৩০ সালের মধ্যে AL-31FP টার্বোফ্যান ইঞ্জিন উৎপাদন ৫০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে, যা বর্তমানে বছরে ৩০টি। ভারতীয় বায়ুসেনার (IAF) সুবিশাল Su-30MKI যুদ্ধবিমান বহরের যুদ্ধপ্রস্তুতি নিশ্চিত করার জন্য এই পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ২৬,০০০ কোটি টাকার একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ২৪০টি ইঞ্জিন সংগ্রহের জন্য, যা HAL AL-31FP engine production বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
এই উৎপাদন বৃদ্ধির কৌশল ভারতের প্রধান যুদ্ধবিমানগুলির জীবনচক্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। ২৫৯টিরও বেশি Su-30MKI জেট বর্তমানে সক্রিয় পরিষেবাতে রয়েছে। মধ্য-২০১০-এর দশকে দ্রুত অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণে, এই বিমানগুলির দ্বিতীয় পর্যায়ের ইঞ্জিন প্রতিস্থাপনের সময় ঘনিয়ে আসছে, কারণ আসল ইঞ্জিনগুলির পরিষেবা জীবন শেষ হচ্ছে। তাই দ্রুত উৎপাদন বৃদ্ধি অত্যাবশ্যক।
এই বিপুল চাহিদা মেটাতে HAL তার ওড়িশার কোরাপুট বিভাগে পরিকাঠামো বাড়াচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০টি ইঞ্জিন উৎপাদনের লক্ষ্য বায়ুসেনাকে একটি পর্যাপ্ত রিজার্ভ ইনভেন্টরি তৈরি করতে সাহায্য করবে। পাশাপাশি, HAL দেশীয়করণের উপর জোর দিচ্ছে। বর্তমানে স্থানীয় সামগ্রীর পরিমাণ ৫৪%, যা ৬৩% পর্যন্ত বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, ফলে বিদেশি সরবরাহের উপর নির্ভরতা কমবে।
রাশিয়ার তৈরি AL-31FP ইঞ্জিন Su-30MKI-এর অসাধারণ তত্পরতার জন্য অপরিহার্য, বিশেষ করে এর থ্রাস্ট-ভেক্টরিং কন্ট্রোল (TVC) নোজলের কারণে। এই ইঞ্জিনের একটি স্থির, দেশীয় সরবরাহ নিশ্চিত করা IAF-এর ৬৫,০০০ কোটি টাকার “সুপার সুখোই” আধুনিকীকরণ কর্মসূচির পরিপূরক। এই আপগ্রেড কর্মসূচিতে ভারুপাক্ষ AESA রাডার এবং উন্নত ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার স্যুট অন্তর্ভুক্ত হবে। দেশীয় উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করে ভারত বৈশ্বিক সরবরাহ বিঘ্নের ঝুঁকি কমিয়ে তার প্রাথমিক যুদ্ধবিমানগুলিকে অঞ্চলে প্রভাবশালী শক্তি হিসাবে বজায় রাখছে।