বর্তমানে ভারতে একাধিক মোবাইল অ্যাপ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তাকে বিপন্ন করতে পারে। এই নিষিদ্ধ ও ‘ফরবিডেন’ অ্যাপগুলি ব্যবহার করলে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য চুরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে এবং সাইবার অপরাধীরা এই তথ্য কাজে লাগিয়ে আর্থিক ক্ষতি করতে পারে। সম্প্রতি ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক 232 টি অ্যাপ নিষিদ্ধ করেছে, যার মধ্যে বেশ কিছু জনপ্রিয় ফিনান্স-সংক্রান্ত অ্যাপও রয়েছে।
1. TikTok
TikTok ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য বিদেশি সার্ভারে store করে, যা দেশের সাইবার সিকিউরিটির জন্য বড় চিন্তার বিষয়। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা ফাঁস হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়।
2. PUBG Mobile
অনেকেই মনে করেন যে PUBG Mobile শুধু একটি গেম, কিন্তু এর মাধ্যমে প্রচুর পরিমাণে ডেটা অন্যত্র পাচার করা হয়। এই গেমটি নিষিদ্ধ করার অন্যতম কারণ হলো ডেটা চুরি এবং ব্যবহারকারীদের মানসিকতায় নেতিবাচক (Negative) প্রভাব ফেলা।
3. CamScanner
CamScanner ছিল এমন একটি অ্যাপ (App), যা ব্যবহারকারীদের ডকুমেন্ট স্ক্যান করতে সাহায্য করত। কিন্তু এটি পরবর্তীকালে ক্ষতিকারক সফটওয়্যার হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে এবং ডেটা চুরির মাধ্যমে ব্যাবহারকারীদের ঝুঁকিতে ফেলতে পারে বলে মনে করা হয়।
4. Shareit
Shareit অ্যাপটি দ্রুত ফাইল ট্রান্সফার করার জন্য বেশ জনপ্রিয় ছিল, তবে এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের গোপনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হতে পারে বলে অভিযোগ রয়েছে। এজন্য এই অ্যাপটি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
5. WeChat
WeChat শুধু একটি মেসেজিং অ্যাপ নয়, এটি ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে এবং তৃতীয় কোন সংস্থার কাছে শেয়ার করতে পারে বলে অভিযোগ রয়েছে। তাতে অ্যাপ ব্যাবহারকারীদের ব্যাক্তিগত তথ্য অন্যত্র পাচার হয়ে যায় এ কারণেই এটি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এই অ্যাপগুলি নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে ভারত সরকার দেশের সাইবার সিকিউরিটি আরও শক্তিশালী করতে চায়। এগুলি ডাউনলোড বা ব্যবহার করার ফলে ব্যবহারকারীদের যেমন আর্থিক ক্ষতি হতে পারে তেমন তথ্যের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। তাই ব্যবহারকারীদের অনুরোধ করা হচ্ছে, তারা যেন নিষিদ্ধ এই অ্যাপগুলো থেকে দূরে থাকে এবং নিজেদের ব্যাক্তিগত তথ্য নিরাপদে রাখে।