পকেটেই আছে কার্ড, অথচ গায়েব হচ্ছে টাকা! কোনো PIN ছাড়াই সর্বস্বান্ত হতে পারেন নতুন এই স্ক্যামে

Ghost Tapping

একবার কল্পনা করুন তো, আপনি পুজোর বাজারে বা কোনো শপিং মলে ভিড়ের মধ্যে হাঁটছেন। আপনার ওয়ালেট বা পার্স পকেটে নিরাপদে রাখা আছে। কিন্তু বাড়ি ফিরে দেখলেন, আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে ধাপে ধাপে টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে। অথচ আপনি কোনো ওটিপি (OTP) শেয়ার করেননি, কোনো পিন (PIN) দেননি, এমনকি কার্ডটাও পকেট থেকে বের করেননি!

না, এটা কোনো সিনেমার দৃশ্য নয়। বর্তমানে ভারতে এমনই এক নতুন ধরণের ডিজিটাল জালিয়াতি বা স্ক্যাম শুরু হয়েছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘Ghost Tapping’ (ঘোস্ট ট্যাপিং)। সম্প্রতি বিখ্যাত টেক ইনফ্লুয়েন্সার রাজীব মাখানি তাঁর Instagram হ্যান্ডেলে একটি রিল শেয়ার করেছেন, যা দেখে রীতিমতো আতঙ্ক ছড়িয়েছে নেটপাড়ায়। চলুন, জেনে নিই কীভাবে এই জালিয়াতি হয় এবং কীভাবে নিজের কষ্টার্জিত টাকা বাঁচাবেন।

স্ক্যামটা আসলে কী?

আমাদের জীবন সহজ করতে ব্যাঙ্কগুলো ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডে Tap and Pay বা Contactless Payment ফিচার এনেছে। এতে ব্যবহৃত হয় NFC (নিয়ার-ফিল্ড কমিউনিকেশন) টেকনোলজি। এর সুবিধা হলো, মেশিনে কার্ড না ঘষে শুধু ছুঁইয়ে দিলেই পেমেন্ট হয়ে যায়। আর নির্দিষ্ট একটা ছোট অ্যামাউন্টের জন্য (যেমন ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত) কোনো PIN বা পাসওয়ার্ডের প্রয়োজন হয় না।

ঠিক এই সুবিধাটাই এখন সাইবার ক্রিমিনালদের প্রধান হাতিয়ার। ঠগরা এখন পকেটে ছোট POS (পয়েন্ট অফ সেল) মেশিন বা কার্ড রিডিং ডিভাইস নিয়ে ঘোরে। ভিড়ের সুযোগ নিয়ে তারা আপনার খুব কাছে এসে দাঁড়ায় এবং আপনার পকেটের কাছে মেশিনটি ধরতেই—ব্যাস! আপনার কার্ড থেকে টাকা কেটে সোজা তাদের অ্যাকাউন্টে। কোনো শব্দ নেই, কোনো নোটিফিকেশন নেই, যেন কোনো অদৃশ্য ভূত টাকা সরিয়ে নিল!

কোথায় বেশি রিস্ক?

বিশেষজ্ঞদের মতে, জনবহুল জায়গাগুলোই এই স্ক্যামারদের প্রধান টার্গেট। বিশেষ করে:

  • শপিং মল (Malls)
  • এয়ারপোর্ট (Airports)
  • টুরিস্ট স্পট (Tourist Spots)
  • ভিড় মেট্রো, বাস, ট্রেন

যদিও পুলিশের খাতায় এখনও বড়সড় কোনো লসের রিপোর্ট জমা পড়েনি, কিন্তু টেক নিউজ পোর্টালগুলো বলছে, ভারতে এই ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। রাজীব মাখানির ভিডিওটিতেও দেখানো হয়েছে কীভাবে পকেটে রাখা কার্ড স্ক্যান করে নিমেষেই জালিয়াতি করা সম্ভব।

বাঁচার উপায় কী?

আতঙ্কিত হবেন না। সামান্য একটু সচেতন হলেই এই বিপদ এড়ানো সম্ভব। নিচে দেওয়া টিপসগুলো মেনে চলুন:

১. RFID-ব্লকিং ওয়ালেট ব্যবহার করুন: বাজারে এখন বিশেষ ধরণের মানিব্যাগ বা কার্ড হোল্ডার পাওয়া যায়, যাকে RFID-Blocking Wallet বলে। এতে মেটালের একটা আস্তরণ থাকে যা আপনার কার্ডের সিগন্যাল বাইরে যেতে দেয় না। ফলে স্ক্যামাররা মেশিন ধরলেও কার্ড রিড করতে পারবে না।

২. ট্যাপ-টু-পে ফিচার বন্ধ রাখুন: যদি আপনি এই ফিচার নিয়মিত ব্যবহার না করেন, তবে এখনই আপনার ব্যাঙ্কের অ্যাপে (যেমন SBI YONO, iMobile, বা HDFC অ্যাপ) লগইন করে NFC বা Contactless Payment অপশনটি ‘OFF’ বা ডিসেবল করে দিন। যখন দরকার হবে, তখন আবার অন করে নেবেন।

৩. পেমেন্ট লিমিট কমান: যদি এই ফিচার চালু রাখতেই হয়, তবে এর ট্রানজ্যাকশন লিমিট কমিয়ে দিন। ধরুন, লিমিট ৫০০ বা ১০০০ টাকা করে রাখলেন। এতে বড় কোনো অংকের টাকা চুরি হওয়ার ভয় থাকবে না।

৪. SMS অ্যালার্ট চেক করুন: ফোনে ব্যাঙ্কের SMS এবং অ্যাপ নোটিফিকেশন সবসময় অন রাখুন। ছোটখাটো কোনো অজানা ট্রানজ্যাকশন চোখে পড়লেই তৎক্ষণাৎ ব্যাঙ্কে জানান।

প্রযুক্তি আমাদের জীবন সহজ করেছে ঠিকই, কিন্তু সাথে কিছু ঝুঁকিও এনেছে। তাই ভিড়ের মধ্যে হাঁটার সময় একটু সতর্ক থাকুন। আপনার সচেতনতাই আপনার টাকার সেরা সুরক্ষা।

এই মুহূর্তে

আকাশ থেকে নিখুঁত আঘাত! ভারতের হাতে আসছে ১০০০টি ‘রাফায়েল স্পাইস’ মিসাইল, চিন্তায় পড়শী দেশগুলি

৩ থেকে ৫ লাখ টাকাতেই বাড়ির সামনে নতুন গাড়ি! মাইলেজ ৩৪ কিমি-মধ্যবিত্তের স্বপ্নপূরণের সেরা ৫টি অপশন

Amazon Sale 2026: বছরের শুরুতেই ধামাকা! iPhone থেকে AC – কখন পাবেন সেরা ডিসকাউন্ট? রইল পুরো ক্যালেন্ডার

Vivo-র নতুন ধামাকা! বিশাল ব্যাটারি আর দুর্দান্ত স্টোরেজ নিয়ে এল Vivo Y500i, দাম জানলে অবাক হবেন