Techne And Logos

যুদ্ধের ময়দানে এবার ভারতের ‘মাস্টারস্ট্রোক’! ড্রোন ধ্বংস করতে আসছে ARDE-র বিশেষ অ্যান্টি-ড্রোন বুলেট

Drone destroyer gun

আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে এখন আর শুধু বড় মিসাইল বা ট্যাঙ্কের লড়াই হয় না; এখন সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ছোট ছোট ড্রোন। শত্রুপক্ষ সস্তায় তৈরি ড্রোন দিয়ে গুপ্তচরবৃত্তি চালাচ্ছে, আবার কখনও আকাশ থেকে গ্রেনেড ফেলছে। সেনারা অনেক সময় এই ছোট ও দ্রুতগতির টার্গেটের সামনে অসহায় হয়ে পড়েন। কিন্তু আর নয়! ভারতীয় প্রতিরক্ষা বিজ্ঞানীরা এর এক ‘স্মার্ট’ এবং সস্তা সমাধান বের করেছেন।

DRDO-র অধীনে থাকা ল্যাবরেটরি Armament Research and Development Establishment (ARDE) এমন এক বিশেষ প্রযুক্তির বুলেট তৈরি করছে, যা ভারতীয় সেনার হাতের সাধারণ রাইফেলকেই ‘ড্রোন কিলার’-এ পরিণত করবে।

সাধারণ বুলেট বনাম অ্যান্টি-ড্রোন বুলেট: পার্থক্য কোথায়?

সাধারণত সেনারা যে বুলেট ব্যবহার করেন, তা একটি নির্দিষ্ট বিন্দুর দিকে সোজা যায়। কিন্তু একটি ছোট এবং দ্রুত উড়ন্ত ড্রোনকে সেই একটি বুলেট দিয়ে আঘাত করা খড়ের গাদায় সূচ খোঁজার মতো কঠিন।

ARDE-র ডিরেক্টর অঙ্কতি রাজু জানিয়েছেন, তাঁরা যে নতুন বুলেট তৈরি করছেন, তা 7.62 mm ক্যালিবারের। এই বুলেটের বিশেষত্ব হলো, এটি রাইফেলের ব্যারেল বা নল থেকে বেরোনোর পরেই ফেটে গিয়ে অসংখ্য ছোট ছোট টুকরোয় ভাগ হয়ে যাবে। অনেকটা শটগানের (Shotgun) গুলি বা জালের মতো এটি ছড়িয়ে পড়বে।

এর ফলে কী হবে?

  • বুলেটটি একটি ‘কনিক্যাল প্যাটার্ন’ বা শঙ্কু আকৃতিতে ছড়িয়ে পড়বে।
  • আকাশে একটি ‘লোহার জাল’ তৈরি হবে, যার মধ্যে দিয়ে ড্রোনটি পালাতে পারবে না।
  • এই ছোট টুকরোগুলো ড্রোনের রোটর (পাখা), ব্যাটারি বা ইলেকট্রনিক্সে আঘাত করে সেটিকে মুহূর্তের মধ্যে ভূপাতিত করবে।

কেন এটি গেম চেঞ্জার?

যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুরা এখন খুব সস্তা কমার্শিয়াল কোয়াডকপ্টার বা ‘লয়টারিং মিউনিশন’ ব্যবহার করছে। এই কয়েক হাজার টাকার ড্রোন মারার জন্য কোটি টাকার মিসাইল বা জ্যামিং সিস্টেম ব্যবহার করা অর্থনৈতিকভাবে বোকামি এবং সবসময় তা সম্ভবও নয়।

সেখানেই এই প্রযুক্তির বাজিমাত!

১. খরচ: এটি অত্যন্ত কম খরচে তৈরি করা হচ্ছে।

২. সহজলভ্য: এটি চালানোর জন্য সেনাদের আলাদা কোনো ভারী মেশিনের দরকার নেই। বর্তমানে ভারতীয় সেনার হাতে থাকা SIG 716i বা AK-203-এর মতো 7.62 mm অ্যাসল্ট রাইফেল দিয়েই এই গুলি চালানো যাবে।

৩. আত্মরক্ষা: ছোট ইনফ্যান্ট্রি ইউনিট বা জওয়ানরা কোনো এয়ার ডিফেন্স সাপোর্ট ছাড়াই নিজেরাই ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে পারবেন।

কবে আসবে সেনার হাতে?

প্রকল্পটি এখন জোরকদমে এগোচ্ছে। ARDE-র বিজ্ঞানীরা বর্তমানে নিশ্চিত করছেন যে, এই বিশেষ বুলেট ফায়ার করার সময় যাতে রাইফেলের ব্যারেলের কোনো ক্ষতি না হয়। সেফটি ট্রায়াল এবং ফিল্ড টেস্টিং সফল হলেই এটি ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর অস্ত্রাগারে যুক্ত হবে।

ভারতের এই উদ্ভাবন প্রমাণ করে যে, প্রযুক্তির লড়াইয়ে আমরা পিছিয়ে নেই। বিশ্বের নামী দামি ডিফেন্স সিস্টেমের বদলে এই ‘স্বদেশি’ প্রযুক্তি একদিকে যেমন সেনার মনোবল বাড়াবে, অন্যদিকে যুদ্ধের খরচও কমাবে। ড্রোন যুদ্ধের মোকাবিলায় এটি সত্যিই এক নতুন দিগন্ত খুলতে চলেছে।

এই মুহূর্তে

এলন মাস্কের বড় ঘোষণা: স্পেসএক্স AI চিপসের জন্য পেল ৪০ বিলিয়ন ডলার, ‘নিওক্লাউড’দের জন্য খারাপ খবর!

মহাকাশে ইতিহাস গড়তে চলেছে Agnikul Cosmos: ২০২৭-এ রকেট বুস্টার পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য

এলন মাস্কের গ্রকের ‘এআই-জেনারেটেড ওডিসি’র প্রথম ঝলক: প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ!

দীপিন্দর গোয়েলের টেম্পল ব্রেন ওয়্যারেবল: দাম ৮৫,০০০ টাকা, কবে থেকে প্রি-অর্ডার? জানুন সব ফিচার