টেক ডেস্কঃ ইতিহাস গড়লেন এলন মাস্ক, SpaceX-এর রেকর্ড ভাঙা IPO-র পর তিনিই বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার। এই যুগান্তকারী ঘটনায় তাঁর মোট সম্পদ ১.১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা তাঁকে গ্রহের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তির আসনে বসিয়েছে। ব্লুমবার্গ, ফোর্বস এবং রয়টার্সের হিসাব অনুযায়ী, তাঁর বিপুল সম্পত্তির বেশিরভাগই এসেছে টেসলা এবং সম্প্রতি পাবলিক হওয়া মহাকাশ গবেষণা সংস্থা SpaceX-এর শেয়ার থেকে।
২০২৬ সালের ১২ জুন মার্কিন বাজারে SpaceX-এর সফল তালিকাভুক্তি ছিল এই উত্থানের মূল কারণ। এই আইপিও-র মাধ্যমে সংস্থাটি ৭৫ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে, যা মাস্কের ইতিমধ্যেই বিশাল সম্পদে আরও শত শত বিলিয়ন ডলার যোগ করেছে। আইপিও-র আগে ব্লুমবার্গ তাঁর মোট সম্পদ ৯৭১ বিলিয়ন ডলার অনুমান করলেও, পাবলিক ট্রেডিং শুরু হতেই তা সহজেই ট্রিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করে যায়। অন্যান্য বিলিয়নিয়ারদের তুলনায় এই অঙ্ক আকাশছোঁয়া; যেমন, দ্বিতীয় ধনী ব্যক্তি ল্যারি পেজের মোট সম্পদ মাস্কের নতুন মূল্যায়নের এক-তৃতীয়াংশেরও কম।
শিল্প বিশেষজ্ঞরা এই ঘটনাকে “মাস্কোনমি” বা “এলন প্রিমিয়াম” নামে অভিহিত করছেন। তাঁদের মতে, মাস্কের সঙ্গে যুক্ত কোম্পানিগুলি তাঁর ব্যক্তিগত ব্র্যান্ড এবং দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে বাজার মূল্যে একটি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পায়। টেসলার ক্ষেত্রেও পূর্বে এই প্রবণতা দেখা গেছে এবং এখন SpaceX-এর ক্ষেত্রেও তা স্পষ্ট, যা ঐতিহ্যবাহী মূল্যায়ন পদ্ধতিকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
টেসলা এবং SpaceX-এর মাধ্যমে তাঁর যুগান্তকারী কাজের বাইরেও, মাস্কের উদ্যোগী সাম্রাজ্যে রয়েছে দ্য বোরিং কোম্পানি এবং নিউরালিঙ্ক-এর মতো সংস্থাগুলি, যা বিভিন্ন উচ্চ-প্রযুক্তি ক্ষেত্রে তাঁর প্রভাবকে আরও বিস্তৃত করেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়া থেকে শুরু করে স্বয়ংচালিত এবং মহাকাশ শিল্পের মতো ক্ষেত্রগুলিকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করার এই যাত্রা, এই অভূতপূর্ব আর্থিক সাফল্যের মাধ্যমে এক নতুন যুগের সূচনা করল।