ভারতের সীমান্ত রক্ষার কৌশলে এক নতুন মোড় এনে দিয়েছে অপারেশন সিঁদুর। ২২ এপ্রিল ২০২৫, পহেলগাঁও-তে জঙ্গি হামলার যোগ্য জবাব দিতেই এই গুরুত্বপূর্ণ অভিযান শুরু করে ভারতীয় সেনাবাহিনী। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল সীমান্তে অনুপ্রবেশ রুখে দেওয়া এবং জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করা। আর এই অভিযানের কেন্দ্রে ছিল শক্তিশালী T-72S Main Battle Tank।
জম্মু ও কাশ্মীরের আখনূর সেক্টরে সরাসরি LoC (Line of Control)-এ মোতায়েন করা হয় এই T-72S ট্যাঙ্কগুলো। পাকিস্তানের উসকানিতে হামলা এবং জঙ্গি অনুপ্রবেশের চেষ্টা ঠেকাতেই নেওয়া হয় এই কড়া পদক্ষেপ।
T-72S ট্যাঙ্কের ক্ষমতা
সোভিয়েত ডিজাইনের এই ট্যাঙ্কগুলি ১৯৮০–র দশকে ভারতীয় বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হয় এবং বর্তমানে এগুলোর প্রায় ২,৫০০ ইউনিট Avadi-র Heavy Vehicles Factory-তে তৈরি ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়। এদের প্রতিটি ট্যাঙ্কে রয়েছে ১২৫ মিমি কামান, Anti-Tank Guided Missile (ATGM), যা ৪০০০ মিটার পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। এছাড়াও এগুলিতে রয়েছে Explosive Reactive Armour, GPS, ও Advanced Fire Suppression System।
সম্প্রতি ভারতের রাশিয়ার সঙ্গে $248 মিলিয়নের একটি চুক্তি হয়েছে, যার মাধ্যমে ১,০০০ HP ইঞ্জিন সংযোজন করা হবে এবং ভারতীয় প্রযুক্তিকেও সমর্থন করবে Technology Transfer এর মাধ্যমে।
যুদ্ধে সফলতা
Operation Sindoor-এ T-72-র সঙ্গে BMP-2 Armoured Vehicles, Air Defence Units, Artillery ও Infantry একযোগে কাজ করে। জঙ্গি অনুপ্রবেশের পথগুলি বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং নিশ্ছিদ্র নজরদারির মাধ্যমে নির্দিষ্ট শত্রুপক্ষের অবস্থান চিহ্নিত করে ধ্বংস করা হয়। পাক অধিকৃত কাশ্মীর ও পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ৯টি হাই ভ্যালু টার্গেটে হামলা চালিয়ে ৬টি টার্গেট সফলভাবে ধ্বংস করে ভারতীয় বাহিনী।
এই অভিযানে পাকিস্তানি সেনাদের ৬৫ জন নিহত হয়েছে বলে সূত্রের খবর, তবে ভারতীয় বাহিনীর একজনও প্রাণ হারাননি।
ভারতের এই অভিযান ছিল সীমিত ও লক্ষ্যভিত্তিক, কিন্তু এর মাধ্যমে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে—পরবর্তী কোনো জঙ্গি হামলাকে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা হিসেবেই বিবেচনা করা হবে।
বর্তমানে সক্রিয় অভিযান বন্ধ থাকলেও LoC-এর প্রতিটি ইঞ্চিতে ২৪ ঘণ্টার নজরদারি চলছে। ভারতীয় বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত, এবং ভবিষ্যতে কোনো প্রকার অনুপ্রবেশ বা আক্রমণের জবাব দেওয়া হবে অত্যন্ত কঠোরভাবে।
T-72S Main Battle Tank-এর এই মোতায়েন সীমান্তে শুধু প্রতিরক্ষাকে জোরদার করেনি, বরং ভারতের সামরিক প্রস্তুতির দৃঢ় সংকল্প ও ভবিষ্যতের কৌশলগত রূপরেখাও স্পষ্ট করে দিয়েছে প্রতিপক্ষের কাছে।