ভারত এবার যুদ্ধবিমান ইঞ্জিন প্রযুক্তিতে বড় কৌশলগত পদক্ষেপ নিতে চলেছে। যুক্তরাজ্য (UK), ফ্রান্স (France) ও জাপান (Japan)-এর সঙ্গে হাত মিলিয়ে নেক্সট-জেনারেশন ফাইটার জেট ইঞ্জিন যৌথভাবে তৈরি ও উৎপাদনের পরিকল্পনা করছে ভারত। এই উদ্যোগ দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পে এক নতুন মোড় আনবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
এই পদক্ষেপের পেছনে বড় কারণ—General Electric (USA)-এর সঙ্গে GE F414 ইঞ্জিন যৌথ উৎপাদন নিয়ে দীর্ঘদিনের দেরি। এই ইঞ্জিন AMCA (Advanced Medium Combat Aircraft) ও TEJAS প্রকল্পের জন্য অত্যন্ত জরুরি হলেও আলোচনায় গতি আসছে না। তাই ভারতীয় প্রতিরক্ষা দপ্তর এখন দেশীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি, সাপ্লাই চেনের নির্ভরযোগ্যতা এবং প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা-কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ইতিমধ্যেই যুক্তরাজ্যের Rolls-Royce ও ফ্রান্সের Safran-এর সঙ্গে গভীর প্রযুক্তিগত পর্যালোচনা ও আলোচনা করেছে। দুই সংস্থাই ফুল টেকনোলজি ট্রান্সফার এবং ইন্টেলেকচুয়াল প্রোপার্টি কো-ওনারশিপ-এর প্রস্তাব দিয়েছে, যাতে DRDO-কে সঙ্গে নিয়ে ভারতে উৎপাদন করা যায়। এর মধ্যে Safran-এর প্রস্তাব সবচেয়ে সঠিক, কারণ এটি AMCA-র সময়সীমার সঙ্গে মিলে যাচ্ছে এবং সম্পূর্ণ প্রযুক্তি হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।
ফরাসি সহযোগিতা মূলত প্রায় ₹61,000 কোটি টাকার এক বিশাল প্রকল্পের অংশ, যেখানে যৌথভাবে 120 কিলোনিউটন থ্রাস্ট ক্ষমতার একটি শক্তিশালী ইঞ্জিন তৈরি হবে। এই ইঞ্জিন ভবিষ্যতের যুদ্ধবিমান, বিশেষত AMCA-কে শক্তি যোগাবে।
এই পদক্ষেপে ভারতের প্রতিরক্ষা কৌশল রাশিয়ান নির্ভরতা ও সাম্প্রতিক মার্কিন-কেন্দ্রিক অংশীদারিত্ব থেকে সরে এসে বহুমুখী ও ভারসাম্যপূর্ণ জোট গঠনের পথে হাঁটছে। জাপান-এর ক্ষেত্রে আলোচনা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে, তবে তাদের প্রস্তাবও যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের মতো প্রযুক্তি হস্তান্তর ও যৌথ উন্নয়নের দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
DRDO বর্তমানে সব প্রস্তাব খতিয়ে দেখছে, আর প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের বৈঠকগুলোয় ভারতের স্পষ্ট সংকেত—যত তাড়াতাড়ি সম্ভব প্রকল্প শুরু করতে হবে। যদিও প্রথম দুইটি AMCA স্কোয়াড্রনে US-made ইঞ্জিন ব্যবহৃত হবে, কিন্তু পরবর্তী ৫টি স্কোয়াড্রন—অর্থাৎ ১০০টিরও বেশি বিমান—এই নতুন আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বে তৈরি ইঞ্জিনে চলবে।
ভারতের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য—কাটিং-এজ প্রযুক্তি অর্জন, আমদানির উপর নির্ভরতা কমানো, এবং দেশীয় এয়ারোস্পেস ম্যানুফ্যাকচারিং-কে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া। এর জন্য চলছে বহুস্তরীয় আলোচনা, প্রযুক্তি হস্তান্তর চুক্তি, যৌথ উৎপাদন পরিকল্পনা ও স্থানীয় সাপ্লাই চেইন গড়ে তোলা—যাতে ভারত সেই দেশের তালিকায় উঠে আসে যারা যুদ্ধবিমান ইঞ্জিন ডিজাইন ও উৎপাদনের জটিল কৌশল আয়ত্ত করেছে।