চিনের কিংদাও শহরে SCO (Shanghai Cooperation Organisation)-এর প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের বৈঠকের ফাঁকে এক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎকারে দেখা করেন ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আন্দ্রে বেলোউসোভ। এই বৈঠকে দু’দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও দৃঢ় করার পাশাপাশি ভবিষ্যতের মিসাইল সরবরাহ ও প্রযুক্তি নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়।
অপারেশন সিঁদুর পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার
অপারেশন সিঁদুরের পটভূমিতে যখন দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি উত্তপ্ত, তখন এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ২২ এপ্রিল, ২০২৫, জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওতে জঙ্গি হামলার ঘটনার পর রাশিয়া কড়া ভাষায় সেই ঘটনার নিন্দা করে এবং ভারতের পাশে থাকার বার্তা দেয়।
S-400 ট্রায়াম্ফ: বিলম্বিত ডেলিভারি ও ভবিষ্যতের পরিকল্পনা
২০১৮ সালে ভারতের সঙ্গে ৫.৪৩ বিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে রাশিয়া ৫টি S-400 স্কোয়াড্রন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। ২০২৩ সালের মধ্যে তা সম্পূর্ণ হওয়ার কথা থাকলেও, রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে শুধুমাত্র ৩টি স্কোয়াড্রনই এখনো পর্যন্ত পাঠানো হয়েছে।
এই বৈঠকে রাশিয়া জানিয়েছে, ৪র্থ স্কোয়াড্রন ২০২৬ সালে এবং ৫ম স্কোয়াড্রন ২০২৭ সালে ভারতে পৌঁছাবে। প্রতিটি স্কোয়াড্রনে দুটি ব্যাটারি থাকে এবং মোট ১২৮টি মিসাইল থাকে, যা ১২০ থেকে ৩৮০ কিমি পর্যন্ত দূরত্বের আকাশপথে বিভিন্ন ধরণের চ্যালেঞ্জ (যেমন ফাইটার জেট, ড্রোন, ক্রুজ মিসাইল) প্রতিহত করতে সক্ষম।
সম্প্রতি পাকিস্তানের দাবি অনুযায়ী তারা আদমপুর এয়ারবেসে একটি S-400 ধ্বংস করেছে, যা সরাসরি নস্যাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বেস পরিদর্শন করেন এবং সক্রিয় S-400 ব্যাটারির পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলেন – এটা ছিল স্পষ্ট বার্তা যে ভারতের প্রতিরক্ষা এখনও অক্ষত ও প্রস্তুত।
Su-30MKI’র আধুনিকীকরণ
ভারতের প্রধান ফাইটার জেট Su-30MKI-এর উন্নয়নও এই আলোচনার মূল বিষয় ছিল। উন্নত রাডার, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম এবং নতুন এয়ার–টু–এয়ার মিসাইল যোগের মাধ্যমে এই জেটগুলিকে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জের মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত করা হবে। উভয় দেশ দ্রুততার সঙ্গে এই আপগ্রেড বাস্তবায়নের বিষয়ে একমত হয়েছে।
আত্মনির্ভরতার পথে: DRDO’র প্রজেক্ট Kusha
বিদেশি সহযোগিতার পাশাপাশি, ভারতীয় প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO) নিজস্ব লং রেঞ্জ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম তৈরি করছে যার নাম Project Kusha। এটি ৩৫০ কিমি পর্যন্ত দূরের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারবে। সরকার ইতিমধ্যে ৫টি স্কোয়াড্রনের অনুমোদন দিয়েছে এবং আশা করা যাচ্ছে ২০২৮ থেকে ২০২৯ সালের মধ্যে এগুলি মোতায়েন করা হবে।
এই বৈঠক ছিল ভারতের সক্রিয় প্রতিরক্ষা কূটনীতির স্পষ্ট নিদর্শন। রাশিয়ার সঙ্গে দৃঢ় বন্ধন বজায় রেখে এবং একযোগে দেশীয় প্রযুক্তির উন্নয়নে জোর দিয়ে, ভারত প্রস্তুতি নিচ্ছে। SCO-এর মঞ্চে এই আলোচনা শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নয়, সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তার মানচিত্রেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।