টেক ডেস্কঃ ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে (IOR) চিনের ডুবোজাহাজ বাহিনীর ক্রমবর্ধমান হুমকির মোকাবিলায় ভারতীয় নৌসেনা একটি অত্যাধুনিক এয়ার-লঞ্চড, রকেট-সহায়তা প্রাপ্ত টর্পেডো সিস্টেম তৈরির সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখছে। এই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপটি ভারতের সাবমেরিন-বিরোধী যুদ্ধ (ASW) ক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করবে।
এই উদ্ভাবনী অস্ত্রটি, যা মানবচালিত যুদ্ধবিমান এবং চালকবিহীন আকাশযান (UAV) উভয় থেকেই নিক্ষেপ করা যাবে, তা প্রচলিত স্বল্প-পাল্লার টর্পেডো নিক্ষেপের পদ্ধতি থেকে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। এতে একটি প্রচলিত হালকা টর্পেডোর সাথে একটি উন্নত পাল্লা-বর্ধক কিট সংযুক্ত থাকবে। একবার বিমান থেকে উৎক্ষেপিত হলে, একটি ছোট প্রপালশন ইউনিট অস্ত্রটিকে ২৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্বে নিয়ে যাবে।
এটি উৎক্ষেপণকারী প্ল্যাটফর্মকে শত্রুর বিমান প্রতিরক্ষা অঞ্চলের বাইরে নিরাপদে কাজ করার সুযোগ দেবে। লক্ষ্যস্থলে পৌঁছানোর পর, ফ্লাইট কিটটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে এবং টর্পেডোটি অত্যন্ত কম শব্দে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জলে প্রবেশ করে শত্রুর ডুবোজাহাজের সন্ধান করবে। আধুনিক নৌযানগুলি এখন মারাত্মক সারফেস-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সজ্জিত, যা P-8I পোসেইডনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিমান সম্পদগুলির জন্য প্রচলিত ASW অভিযানকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে।
DRDO-র সারফেস-লঞ্চড স্মার্ট (SMART) সিস্টেমের সঙ্গে এর কিছু মিল রয়েছে। এই এয়ার-লঞ্চড ধারণাটি নৌ বিমানচালনায় একই ধরনের দূরপাল্লার নমনীয়তা নিয়ে আসবে। যদিও এটি এখনও ধারণাগত পর্যায়ে রয়েছে, এই প্রকল্পটি ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করার প্রতিশ্রুতিকে তুলে ধরে। আগামী দশকে এর সফল বিকাশের জন্য ব্যাপক গবেষণা, কঠোর পরীক্ষা এবং জটিল প্ল্যাটফর্ম ইন্টিগ্রেশন প্রয়োজন হবে, যা IOR-এ ডুবোজাহাজের হুমকির বিরুদ্ধে ভারতের অবস্থানকে আরও দৃঢ় করবে।