ভারত আবারও প্রমাণ করল যে, সে নিজের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক ভারসাম্যের ব্যাপারে কারও হুমকিকে পাত্তা দেয় না। ডোনাল্ড ট্রাম্পের ট্যারিফ হুমকির মাঝেও, ভারত এখন রাশিয়ার সঙ্গে ₹১০,০০০ কোটির এক বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তির আলোচনায় রয়েছে।
এই নতুন চুক্তিটি S-400 এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই করা হচ্ছে, যা বর্তমানে ভারতীয় বায়ুসেনা (IAF)-র অন্যতম প্রধান প্রতিরক্ষা সম্পদ।
‘অপারেশন সিন্দূর’-এ বদলে দিল খেলার নিয়ম
প্রতিরক্ষা সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি এক চার দিনের সঙ্কটকালীন অভিযানে, যার নাম ‘অপারেশন সিন্দূর’, ভারতীয় S-400 সিস্টেম অসাধারণ কার্যকারিতা প্রদর্শন করেছে।
সেই অভিযানে এই সিস্টেম ৫ থেকে ৬টি পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান এবং একটি নজরদারি বিমানকে ধ্বংস করতে সক্ষম হয় — তাও ৩০০ কিলোমিটার দূরে, পাকিস্তানের ভেতরে!
IAF জানিয়েছে, এই সিস্টেম ভারতের ইন্টিগ্রেটেড এয়ার ডিফেন্স নেটওয়ার্কে এক “গেম-চেঞ্জার” হিসেবে কাজ করছে।
রাশিয়ার সঙ্গে নতুন আলোচনা ও প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা
সূত্রের খবর, ভারত এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলি বড় পরিমাণে সংগ্রহের পথে, যাতে S-400 স্কোয়াড্রনগুলির অপারেশনাল রেডিনেস ও দীর্ঘস্থায়িতা আরও বাড়ানো যায়।
এই প্রস্তাবটি সম্ভবত ২৩ অক্টোবরের প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ কাউন্সিল (Defence Acquisition Council) বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে।
ভারত এর আগে ২০১৮ সালে রাশিয়ার সঙ্গে ৫টি S-400 রেজিমেন্ট সেট কেনার জন্য চুক্তি করেছিল। এর মধ্যে ৩টি সম্পূর্ণরূপে সক্রিয়, কিন্তু চতুর্থ ও পঞ্চম ইউনিটের সরবরাহ এখনো বাকি।
বিলম্বের মূল কারণ রাশিয়ার ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যস্ততা, ফলে উৎপাদন প্রক্রিয়া কিছুটা পিছিয়ে গেছে।
S-500 ও উন্নত ব্রহ্মোস নিয়ে আলোচনা চলছে
শুধু S-400 নয়, ভারত এখন রাশিয়ার সঙ্গে S-500 সিস্টেম ও উন্নত আকাশে-আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র কেনার দিকেও নজর দিচ্ছে।
এছাড়া, দুই দেশ যৌথভাবে তৈরি BrahMos সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইলকে আরও উন্নত করার পরিকল্পনা করছে—যাতে স্থল, আকাশ ও নৌ—সব ক্ষেত্রেই এর সক্ষমতা বাড়ানো যায়।
IAF মনে করে, BrahMos তাদের স্ট্রাইক অপারেশনের “মেরুদণ্ড” এবং ভবিষ্যতের কৌশলগত সহযোগিতায় এটি আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
ডিসেম্বরে পুতিনের ভারত সফর: নতুন মাইলফলকের আশা
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (Vladimir Putin) আগামী ডিসেম্বর মাসে ভারতে আসছেন।
এই সফরে দুই দেশের মধ্যে সামরিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা আরও গভীর করার সম্ভাবনা রয়েছে।
চলমান প্রকল্পগুলির অগ্রগতি এবং নতুন সুযোগগুলির খোঁজে ভারত-রাশিয়া দুই দেশই এখন প্রস্তুতি নিচ্ছে।
শেষকথা
ট্রাম্পের ট্যারিফ হুমকি, পশ্চিমা চাপ—এসবের পরেও ভারত আবারও দেখাল, জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সে একা নিজের সিদ্ধান্ত নেয়।
₹১০,০০০ কোটির এই ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তি শুধু রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে না, বরং ভারতের আকাশকে দেবে এক অভেদ্য প্রতিরক্ষা ঢাল।