টেক ডেস্কঃ দিল্লিতে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত দুই দিনের সাইবার-এনাবলড কগনিটিভ ওয়ারফেয়ার সেমিনারে ভারতের প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), সাইবার হুমকি এবং তথ্য যুদ্ধ নিয়ে গভীর আলোচনা করেছেন। এই গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্টটি ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল বিশ্বে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় জোরালো কৌশল প্রণয়নের জরুরি প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়েছেন যে, ভবিষ্যতের সংঘাত কেবল শারীরিক যুদ্ধক্ষেত্রে নয়, বরং মানুষের মনস্তাত্ত্বিক ক্ষেত্র বা কগনিটিভ ডোমেনেও লড়া হবে, যেখানে ধারণা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
সেমিনারটিতে শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা, গোয়েন্দা প্রধান এবং সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা একত্রিত হয়েছিলেন প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য। আলোচনায় উঠে এসেছে ভুল তথ্য প্রচারের মোকাবিলা, গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোকে উন্নত সাইবার হামলা থেকে রক্ষা এবং আক্রমণাত্মক ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি প্রতিরক্ষামূলক উদ্দেশ্যে AI ব্যবহারের কৌশল। অংশগ্রহণকারীরা এই গতিশীল হুমকির পরিবেশে শত্রুদের থেকে এগিয়ে থাকতে আন্তঃ-সংস্থা সহযোগিতা এবং নিরন্তর উদ্ভাবনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
তথ্য যুদ্ধের মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব এবং জনগণের মধ্যে ভুল তথ্য ও প্রচারণার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত ছিল: ভারতকে Cyber-Enabled Cognitive Warfare এর জটিলতা আয়ত্ত করতে গবেষণা, প্রযুক্তি এবং দক্ষ মানবসম্পদে ব্যাপক বিনিয়োগ করতে হবে। এই সক্রিয় এবং ব্যাপক দৃষ্টিভঙ্গি কৌশলগত সুবিধা বজায় রাখতে এবং উদীয়মান হাইব্রিড হুমকির বিরুদ্ধে দেশের অখণ্ডতা নিশ্চিত করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সেমিনার থেকে প্রাপ্ত গভীর অন্তর্দৃষ্টি নিঃসন্দেহে ভারতের ভবিষ্যৎ প্রতিরক্ষা মতবাদ ও কৌশলগত প্রস্তুতিকে রূপ দেবে।