ভারতের অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান AMCA-র জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রোপালশন সিস্টেম (AMCA Propulsion System) যৌথভাবে তৈরির লক্ষ্যে দেশে একটি বিশেষ অ্যারো-ইঞ্জিন ডিজাইন সেন্টার গড়ার প্রস্তাব দিয়েছে ব্রিটিশ মহাকাশ সংস্থা রোলস-রয়েস। এই কৌশলগত পদক্ষেপটি ফ্রান্সের সাফ্রানের সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে রোলস-রয়েসকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। ভারতের আত্মনির্ভরশীলতা কর্মসূচির এটি একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার জন্য অত্যন্ত জরুরি। AMCA Mk2 ভ্যারিয়েন্টের জন্য একটি শক্তিশালী, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ১১০-১৩০ কিলোননিউটন (kN) ইঞ্জিনের প্রয়োজন, যা বিমানকে সুপারক্রুজ ক্ষমতা, উন্নত সেন্সর ফিউশন এবং সর্বোত্তম স্টিলথ প্রোফাইল দেবে।
রোলস-রয়েস প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, তারা সম্পূর্ণ প্রযুক্তি হস্তান্তর করবে এবং সহ-উন্নত ইঞ্জিনের বৌদ্ধিক সম্পত্তির (IP) সম্পূর্ণ মালিকানা ভারতের হাতে থাকবে। কোম্পানিটি তাদের শতবর্ষের ধাতুবিদ্যা, উৎপাদন, এবং নকশার গভীর অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে প্রস্তুত, যা তারা মার্কিন F-35 ফাইটারের F136 ইঞ্জিন তৈরির মতো বিশেষায়িত পঞ্চম প্রজন্মের প্রোপালশন সিস্টেম বিকাশের অভিজ্ঞতা থেকে অর্জন করেছে। এই প্রস্তাব ভারতের একটি শক্তিশালী, স্বয়ংসম্পূর্ণ অ্যারো-ইঞ্জিন উৎপাদন ইকোসিস্টেম তৈরির লক্ষ্যকে পুরোপুরি সমর্থন করে। অতীতে আমদানিকৃত প্রোপালশন সিস্টেমের উপর নির্ভরতা অনেক সময় সংগ্রহে বিলম্ব ও উৎপাদন সমস্যা তৈরি করেছে। এখন সিঙ্গেল-ক্রিস্টাল টারবাইন ব্লেড কাস্টিং, অ্যাডভান্সড থার্মাল ম্যানেজমেন্ট এবং সিরামিক ম্যাট্রিক্স কম্পোজিটের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিতে অবাধ প্রবেশাধিকার ভারতের জন্য অপরিহার্য।
যদিও রোলস-রয়েসের প্রস্তাব বেশ জোরালো, তবুও সাফ্রানের কঠোর প্রতিযোগিতা রয়েছে। সাফ্রান ভারতের গ্যাস টারবাইন রিসার্চ এস্টাবলিশমেন্ট (GTRE)-এর সঙ্গে সরাসরি অংশীদারিত্বে সম্পূর্ণ নতুন একটি ইঞ্জিন তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে, যেখানে এমনকি অত্যন্ত গোপনীয় হট-সেকশন কোর কম্পোনেন্টগুলিরও সম্পূর্ণ প্রযুক্তি হস্তান্তরের কথা বলা হয়েছে। ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আগামী কয়েক দশক ধরে দেশের মহাকাশ সক্ষমতা এবং বিদেশি সরবরাহ চেইন থেকে স্বাধীনতাকে নতুন দিশা দেবে।