টেক ডেস্কঃ ২০২৫ সালের মে মাসে সংঘটিত সংক্ষিপ্ত অথচ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ অপারেশন সিন্দুর ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা করেছে। এই ঘটনার পর পরই দেশের সামরিক বাহিনীতে শুরু হয় এক ব্যাপক ও দ্রুত আধুনিকীকরণের প্রক্রিয়া, যা কৌশলগত পুনর্গঠন এবং বহুমুখী যুদ্ধের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই, ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল (DAC) ১.৭ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি সামরিক সরঞ্জাম ক্রয়ের অনুমোদন দেয়। এর মধ্যে রয়েছে অত্যাধুনিক ড্রোন, হাইপারসনিক অস্ত্র, সমন্বিত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং নৌবাহিনীর ক্ষমতা বৃদ্ধি। ভারতীয় সেনাবাহিনীতে “অশনি” ড্রোন প্লাটুন ও রুদ্র ব্রিগেড-এর মতো বিশেষায়িত ইউনিট তৈরি করা হয়েছে, যা প্রচলিত যুদ্ধের সাথে ডিজিটাল ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধকে একীভূত করবে।
ডিআরডিও (DRDO) ট্যারার (TARA) মতো রেঞ্জ-এক্সটেনশন গ্লাইড কিট এবং নতুন লং রেঞ্জ অ্যান্টি-শিপ হাইপারসনিক মিসাইলের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। ভারতের সমন্বিত বিমান প্রতিরক্ষা অস্ত্র ব্যবস্থা (IADWS) এআই-চালিত “আকাশতীর্থ” নেটওয়ার্কের মাধ্যমে শত্রুর ‘স্যাচুরেশন অ্যাটাক’ প্রতিহত করার ক্ষমতা প্রদর্শন করেছে।
কৌশলগতভাবে, অগ্নি-V ইন্টারকন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক মিসাইলের সফল পরীক্ষা এবং INS অরিদমনের কমিশন ভারতের পারমাণবিক প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও মজবুত করেছে। ২০২৩ সালের মার্চ মাসে ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার জন্য ২.৩৮ লক্ষ কোটি টাকার বিশাল বরাদ্দ ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের অধীনে গভীর আঘাত হানার সক্ষমতাকে জোরদার করেছে। অপারেশন সিন্দুরের পরবর্তী এই সামরিক উত্থান ভারতের আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতীক।