টেক ডেস্কঃ আপনার স্মার্টফোনের ব্যাটারি প্রায় শেষ, অথচ কাছে চার্জার বা পাওয়ার ব্যাংক কিছুই নেই? এমন জরুরি পরিস্থিতিতে অনেক আধুনিক স্মার্টফোনই আপনাকে ভরসা জোগাতে পারে। কারণ আজকাল বহু ফোনেই এক ফোন থেকে অন্য ফোনে চার্জ দেওয়ার সুবিধা রয়েছে, যা ‘reverse charging’ নামে পরিচিত। বর্তমানে বাজারে আসছে ৭০০০ থেকে ১০০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের বিশাল ব্যাটারির ফোন, যা নিজেই একটি ছোট পাওয়ার ব্যাংকের মতো কাজ করতে পারে। ফলে পাওয়ার ব্যাংকের ওপর আমাদের নির্ভরতাও এখন অনেকটাই কমছে।
এক স্মার্টফোন দিয়ে অন্য ফোন চার্জ করার মূলত দুটি পদ্ধতি রয়েছে। প্রথমত, কিছু ফোনে ওয়্যারলেস বা বেতার পদ্ধতির মাধ্যমে পাওয়ার শেয়ার করা যায়। যেমন, স্যামসাং গ্যালাক্সির অনেক মডেলে ‘ওয়্যারলেস পাওয়ারশেয়ার’ এবং গুগল পিক্সেলের ফোনে ‘ব্যাটারি শেয়ার’ নামে এই সুবিধাটি পাওয়া যায়। এটি চালু করতে ফোনের সেটিংসে গিয়ে ফিচারটি অন করুন এবং অন্য ফোনটিকে আপনার ফোনের পেছনে ব্যাক-টু-ব্যাক রাখুন, চার্জিং এরিয়া যেন ঠিক থাকে। কোনো মোটা কভার থাকলে সেটি সরিয়ে নিন। দ্বিতীয় পদ্ধতিটি হলো কেবল দিয়ে চার্জ করা। ইউএসবি-সি কেবল ব্যবহার করে কিছু ফোনে এই সুবিধা মেলে, তবে এটি ফোনের প্রযুক্তিগত সক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল, শুধু পোর্ট থাকলেই হবে না।
মনে রাখা জরুরি যে, সব ফোনে এই ‘reverse charging’ ফিচারটি থাকে না। ওয়্যারলেস চার্জিং করতে হলে দুটি ফোনেই এই সুবিধা থাকতে হবে। এটি ফাস্ট চার্জিংয়ের বিকল্প নয়; বরং জরুরি অবস্থায় সামান্য চার্জ বাঁচানোর জন্য এটি আদর্শ। পুরোপুরি চার্জ করার জন্য এর ওপর ভরসা করা ঠিক নয়। চার্জ করার সময় ফোন গরম হতে পারে, বিশেষত ওয়্যারলেস পদ্ধতিতে। বেশি গরম হলে চার্জ দেওয়া বন্ধ করুন। যে ফোন থেকে চার্জ দিচ্ছেন, তার ব্যাটারি কমবে, এটি স্বাভাবিক। কিছু ফোনে ব্যাটারি একটি নির্দিষ্ট স্তরে পৌঁছালে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চার্জ দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়।
প্রতিদিনের ব্যবহারের জন্য নয়, বরং প্রয়োজন পড়লে এই ফিচারটি কাজে লাগাতে পারেন। সংক্ষেপে, রিভার্স চার্জিং একটি অত্যন্ত সুবিধাজনক জরুরি বিকল্প, কিন্তু নিয়মিত ব্যবহারের জন্য নয়। আপনার ফোনে এই ফিচারটি আছে কিনা, তা সেটিংসে একবার দেখে নিন। বিপদের সময় এটি সত্যিই কাজে আসতে পারে।