টেক ডেস্কঃ এবারের ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ (FIFA World Cup 2026) শুধু খেলার মহাযজ্ঞ নয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI in FIFA World Cup 2026 কীভাবে ফুটবলকে সম্পূর্ণ নতুন দিশা দেখাচ্ছে, তারও এক অসাধারণ দৃষ্টান্ত। আমেরিকা, কানাডা ও মেক্সিকোয় আয়োজিত এই ঐতিহাসিক টুর্নামেন্টে ফিফা (FIFA) ও লেনোভো (Lenovo)-র হাত ধরে প্রযুক্তির এক বিশাল পরিবর্তন চোখে পড়ছে। মাঠে খেলোয়াড়দের বিশ্লেষণ থেকে শুরু করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সব কিছুতেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ছোঁয়া।
‘ফুটবল এআই প্রো’ (Football AI Pro) নামক এক উন্নত হাইব্রিড ও জেনারেটিভ এআই পদ্ধতি কোচ এবং বিশ্লেষকদের জন্য তৈরি করা হয়েছে। এটি প্রতিটি দলকে খেলার ধরন বিশ্লেষণ, থ্রিডি অ্যাভাটার (3D avatars) ব্যবহার করে ডেটা ভিজ্যুয়ালাইজেশন এবং প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কৌশল বদলানোর ক্ষেত্রে সাহায্য করছে। একই সাথে, ‘ইন্টেলিজেন্ট কমান্ড সেন্টার’ (Intelligent Command Centre) মায়ামি থেকে পুরো টুর্নামেন্টের উপর নজর রাখছে, যা কর্মকর্তাদের সম্ভাব্য সমস্যা দ্রুত চিহ্নিত করতে সাহায্য করছে।
আদিদাস (Adidas) নির্মিত ‘ট্রাইওন্ডা’ (Trionda) নামক ফুটবলটিও আর সাধারণ নয়। এতে ১৪ গ্রামের একটি মোশন সেন্সর (motion sensor) বসানো আছে, যা প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ বার ডেটা ভিএআর (VAR) রুমে পাঠায়। এর ফলে অফসাইড (offside) বা অন্যান্য বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলি দ্রুত ও নির্ভুলভাবে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে। এছাড়া, ১,২৪৮ জন খেলোয়াড়ের নিখুঁত থ্রিডি মডেল তৈরি করা হয়েছে, যা অফসাইডের মতো জটিল সিদ্ধান্তগুলি স্টেডিয়ামের স্ক্রিনে ত্রিমাত্রিক অ্যানিমেশন (3D animation) আকারে প্রদর্শন করে দর্শকদের কাছে আরও স্বচ্ছ করে তুলছে।
নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও AI-এর ভূমিকা অনস্বীকার্য। রেফারিদের শরীরে লাগানো ক্যামেরা (referee body cameras) দর্শকদের খেলার আরও গভীরে নিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে, রোবট ডগ (robot dogs) এবং স্টেডিয়ামের প্রবেশপথে AI-চালিত ফেসিয়াল রিকগনিশন (facial recognition) সিস্টেম নিরাপত্তা জোরদার করেছে, যা এই বিশ্বকাপকে প্রযুক্তির দিক থেকে সর্বকালের সেরা ইভেন্টে পরিণত করছে।