টেক ডেস্কঃ আর্থিক সংকটের কারণে পাকিস্তান জে-১০সিই যুদ্ধবিমানের বকেয়া অর্থ পরিশোধ করতে না পারায় চীন শেষ ১৬টি J-10CE যুদ্ধবিমান সরবরাহ স্থগিত করেছে। এটি তাদের দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য আর্থিক চাপ তুলে ধরছে। প্রথম ২০টি বিমান চীনা ঋণের সহায়তায় হস্তান্তরের পর, পাকিস্তানের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ প্রাক-ডেলিভারি পেমেন্ট মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
ভারতের রাফাল জেটের মোকাবিলায় পাকিস্তান মোট ৩৬টি ৪.৫-প্রজন্মের J-10CE যুদ্ধবিমান অর্ডার করেছিল। কিন্তু ইসলামাবাদে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যাওয়া এবং তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের কারণে শেষ কিস্তির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। এই আর্থিক বাধা পাকিস্তান বিমান বাহিনীর (PAF) নতুন ফাইটার স্কোয়াড্রনগুলিকে পুরোপুরি কার্যকর করার পরিকল্পনাকে ব্যাহত করার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
এই বিষয়টি চীনা জনসাধারণের মধ্যেও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে, যা বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা রপ্তানি শিল্পের জন্য সময়মতো পেমেন্টের গুরুত্ব তুলে ধরেছে। যদিও বর্তমানে সরবরাহ স্থগিত রয়েছে, ইতিমধ্যে সরবরাহ করা J-10CE বিমানগুলি পাকিস্তানের সামরিক সক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে এবং এমনকি ২০২৫ সালের মে মাসে সীমান্ত সংঘর্ষে চীনা প্রযুক্তিগত সহায়তায় ব্যবহৃত হয়েছে।
সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, অর্থনৈতিক সংকটের সময় এই ধরনের অস্থায়ী স্থগিতাদেশ স্বাভাবিক। উভয় দেশই উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করবে, যেখানে পুনর্গঠিত পেমেন্ট প্ল্যান নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এই ঘটনাটি দেখাচ্ছে যে, কীভাবে অর্থনৈতিক বাস্তবতা এই অঞ্চলে কৌশলগত প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে প্রভাবিত করছে, এমনকি ঘনিষ্ঠ মিত্রদের ক্ষেত্রেও।