ভারতীয় নৌবাহিনী এবার আরও শক্তিশালী হতে চলেছে। খুব শীঘ্রই INDIAN NAVY তাদের আধুনিক সমুদ্রসীমা নজরদারি ও সাবমেরিন সক্ষমতা বাড়াতে ৬টি অতিরিক্ত P-8I Neptune Maritime Patrol Aircraft কেনার পরিকল্পনা করছে। এই অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানগুলি তৈরি করছে মার্কিন সংস্থা Boeing, এবং এটি ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তার এক নতুন যুগের সূচনা করবে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।
P-8I Neptune হল Boeing P-8A Poseidon-এর একটি বিশেষ সংস্করণ, যা Indian Navy-এর জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। এটি একটি লং-ডিস্ট্যান্স, মাল্টি-মিশন সামুদ্রিক পেট্রোল বিমান, যা একাধারে Anti-Submarine Warfare (ASW), Anti-Surface Warfare (ASuW), Intelligence, Surveillance and Reconnaissance (ISR) এবং Search & Rescue Operations-এ পারদর্শী।
এই বিমানে রয়েছে আধুনিক Raytheon Multi-Mission Maritime Radar, যার মাধ্যমে শত্রু জাহাজ কিংবা সাবমেরিন অনায়াসে চিহ্নিত করা যায়। এটি Harpoon Block II Anti-Ship Missiles এবং Mk 54 Lightweight Torpedoes বহন করতে পারে, ফলে আক্রমণ ও আত্মরক্ষা উভয়ক্ষেত্রেই এটি অত্যন্ত কার্যকর।
ভারতের Ministry of Defence (MoD) ইতিমধ্যেই U.S. Government-কে একটি Letter of Request (LoR) পাঠিয়েছে। এই ৬টি বিমান কিনতে আনুমানিক খরচ হবে USD 1.8 Billion, এবং এটি U.S. Foreign Military Sales (FMS) প্রোগ্রামের অধীনে চূড়ান্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এর আগেও ভারত ২০০৯ সালে 8টি P-8I এবং ২০১৬ সালে আরও 4টি বিমান কিনেছিল। সব মিলিয়ে বর্তমানে ভারতের হাতে রয়েছে 12টি P-8I, যারা ইতিমধ্যে বহু আন্তর্জাতিক উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছে এবং অত্যাধুনিক অস্ত্র পরীক্ষায় সাফল্য অর্জন করেছে।
প্রতিটি P-8I Aircraft এর সর্বোচ্চ গতি ৯০৭ কিমি/ঘণ্টা, এবং এটি একটানা ১২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত অপারেশন চালাতে সক্ষম। এতে ৯ জনের একটি ক্রু টিম কাজ করে। এছাড়া COMCASA Agreement-এর অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গোপন বার্তা বিনিময় ও তথ্য শেয়ারিং সুবিধা এই বিমানে সংযুক্ত করা হয়েছে, যা ভারতের ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার এবং রিয়েল-টাইম ইন্টারঅপারেবিলিটি-কে আরও মজবুত করে।
এই নতুন ৬টি বিমান যুক্ত হলে পুরনো Tupolev Tu-142 বিমানের জায়গা নেবে এবং ভারতীয় নৌবাহিনী আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে। বিশেষ করে ভারত মহাসাগর অঞ্চলে বাড়তে থাকা কৌশলগত চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এটি শুধু ভারতের সমুদ্রসীমা নয়, বরং গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তা ও ভারসাম্যের ক্ষেত্রে এক বড় পদক্ষেপ।