স্যুটকেস খুললেই তিন চাকার গাড়ি! জানেন এখন কোথায় আছে জাপানের বিখ্যাত ‘Suitcase Car’?

Feature T&L

১৯৯১ সালে জাপানি গাড়ি নির্মাতা মাজদা এমন একটি গাড়ি তৈরি করেছিল যা শুধু গাড়ি নয়, একটি স্যুটকেসের আকারে ভাঁজ করে রাখা যেত! এই অদ্ভুত তিন চাকার গাড়িটি ছিল মাজদার ইঞ্জিনিয়ারদের কল্পনাশক্তির এক অনন্য নিদর্শন। এই গাড়িটির নাম ছিল “স্যুটকেস কার”। আসুন জেনে নিই সেই অসাধারণ গল্প।

কীভাবে তৈরি হয়েছিল এই গাড়ি?

মাজদার ইঞ্জিনিয়ারদের একটি দল ১৯৯১ সালে সংস্থার অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতা “ফ্যান্টাসিয়ার্ড”-এর জন্য এই স্যুটকেস গাড়িটি তৈরি করে। এই প্রতিযোগিতার উদ্দেশ্য ছিল এমন একটি চলন্ত যন্ত্র তৈরি করা যা হবে সৃজনশীল এবং উদ্ভাবনী। ইঞ্জিনিয়ার ইয়োশিমি কানেমোতোর নেতৃত্বে সাতজনের একটি দল একটি বড় স্যামসোনাইট স্যুটকেস এবং একটি ছোট পকেট বাইকের যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে এই গাড়ি তৈরি করে।

গাড়িটির ডিজাইন ছিল সহজ কিন্তু চমকপ্রদ। এটি মাত্র এক মিনিটে স্যুটকেস থেকে তিন চাকার গাড়িতে রূপান্তরিত হতো। সামনের চাকা স্যুটকেসের একটি ফ্ল্যাপ দিয়ে বের করে আনা হতো, পিছনের দুটি চাকা এবং সিট সংযুক্ত করা হতো। এই গাড়িতে ছিল 33.6 CC Two Stroke ইঞ্জিন, যা 1.7 হর্সপাওয়ার শক্তি উৎপন্ন করত এবং গাড়িটির সর্বোচ্চ গতি ছিল ঘণ্টায় 30 কিলোমিটার (১৯ মাইল)।

কেন তৈরি করা হয়েছিল?

এই স্যুটকেস গাড়ির মূল উদ্দেশ্য ছিল বিমানবন্দরে সহজে চলাচলের জন্য একটি বহনযোগ্য যান তৈরি করা। ধারণা ছিল, এটি এমন একটি গাড়ি হবে যা স্যুটকেসের মতো বহন করা যাবে এবং প্রয়োজনে তা গাড়িতে রূপান্তরিত করে চালানো যাবে। তবে এটি কখনোই বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের জন্য তৈরি হয়নি।

গাড়িটিতে ছিল হেডলাইট, ব্রেক লাইট, টার্ন সিগন্যাল, এমনকি হর্নের মতো বৈশিষ্ট্য, যা এটিকে একটি সত্যিকারের গাড়ির মতো করে তুলেছিল। তবে, এর ওজন ছিল 32 কেজি, যা একটি স্যুটকেস হিসেবে বহন করার জন্য বেশ ভারী। এছাড়া, এটির ভেতরে ইঞ্জিন ও চাকার কারণে অন্য কিছু রাখার জায়গা ছিল না।

কোথায় গেল এই গাড়ি?

প্রথম স্যুটকেস গাড়িটি, যা ছিল সবুজ ও লাল রঙের, দুর্ভাগ্যবশত ফ্যান্টাসিয়ার্ড প্রতিযোগিতার পর “দুর্ঘটনায় ধ্বংস” হয়ে যায়। তবে এর জনপ্রিয়তার কারণে মাজদা আরও দুটি গাড়ি তৈরি করে—একটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এবং অন্যটি ইউরোপের জন্য। এই গাড়িগুলো মোটর শো-তে প্রদর্শিত হয়েছিল, যেমন ১৯৯১ সালের ফ্রাঙ্কফুর্ট ইন্টারন্যাশনাল মোটর শো। বর্তমানে কেবল যুক্তরাষ্ট্রের গাড়িটির অস্তিত্ব আছে বলে জানা যায়, ইউরোপেরটির কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।

মাজদার স্যুটকেস গাড়ি কোনো ব্যবহারিক যানবাহন ছিল না, তবে এটি প্রমাণ করেছিল যে ইঞ্জিনিয়ারদের কল্পনাশক্তি এবং সৃজনশীলতার কোনো সীমা নেই। এটি মাজদার ইতিহাসের একটি মজার অধ্যায়, যা সংস্থার উদ্ভাবনী মনোভাবকে তুলে ধরে। এই গাড়িটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, কখনো কখনো সবচেয়ে অদ্ভুত ধারণাগুলোও ইতিহাসে একটি বিশেষ স্থান করে নিতে পারে।

এই মুহূর্তে

Vivo X300e-এর প্রথম সেল শুরু, সঙ্গে Snapdragon 8 Gen 5 ও ৭২০০mAh ব্যাটারি

অ্যান্থ্রপিকের ক্লাউড এআই ব্রাচ: গোপনে পরীক্ষা চলাকালীন তিনটি সংস্থার সিস্টেমে হানা দিল এআই মডেল!

আজ ভারতে আসছে OnePlus N6x: 7,000mAh ব্যাটারি ও 120Hz ডিসপ্লে সহ বাজেট স্মার্টফোন

গুগল পে-তে যুগান্তকারী AI ফিচার ‘Ask Google Pay’: ভারতে খরচ ট্র‍্যাক করা এবার আরও বুদ্ধিমান!