সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত উত্তেজনার মধ্যে প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এক নতুন বিপ্লব ঘটছে ভারতের প্রতিরক্ষা বিভাগে। দেশীয় ড্রোন স্টার্টআপ সংস্থাগুলি এখন দ্রুতগতিতে উৎপাদন বাড়াচ্ছে, সেনাবাহিনীর চাহিদা মেটাতে প্রস্তুত হচ্ছে সম্পূর্ণ ঘরোয়া প্রযুক্তির মাধ্যমে।
ড্রোন এখন আর শুধু নজরদারির জন্য নয়—এগুলো সাশ্রয়ী, কার্যকর এবং লক্ষ্যভেদে নিখুঁত, যা ব্যয়বহুল মিসাইল ব্যবস্থার বিকল্প হয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাকিস্তানের কমদামি ড্রোন হামলার পাল্টা হিসেবে ভারতে এখন দরকার উন্নত, কিন্তু অর্থনৈতিকভাবে যুক্তিসঙ্গত প্রযুক্তি। এই প্রেক্ষাপটে দেশীয় স্টার্টআপগুলির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
Zebu, ePlane, Tata Advanced Systems, ও Adani Defence—এই চারটি সংস্থা এখন শীর্ষে রয়েছে। তারা শুধু ড্রোন তৈরি করছে না, বরং Supply chain তৈরি করে প্রতিরক্ষা কাঠামোকে শক্তিশালী করছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ভারতের সেনাবাহিনী সম্প্রতি Harop Suicide Drone ব্যবহার করে লাহোর ও মুলতানে Strategic Strike করেছে, যা দেশের প্রযুক্তির সক্ষমতা স্পষ্ট করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, Israel যেভাবে যুদ্ধমুখী প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশ্বে প্রতিরক্ষা রপ্তানিতে শীর্ষে রয়েছে, ভারতও সেই পথে হাঁটতে পারে—শর্ত একটাই, সরকার, সেনা ও স্টার্টআপদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও বোঝাপড়া। এই সহযোগিতা ভারতের আত্মনির্ভরতা ও রপ্তানির ক্ষমতা দুই-ই বাড়াবে।
এই ড্রোন স্টার্টআপগুলি শুধু প্রতিরক্ষা নয়, কৃষি, মেডিকেল সাপ্লাই, ও বিনোদন ক্ষেত্রেও নিজেদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি বাড়াচ্ছে। সরকারের সহযোগিতা ও বিনিয়োগে ভারতের ড্রোন ইন্ডাস্ট্রি এখন বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত।
সবচেয়ে বড় কথা, এই পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভারতের তরুণ উদ্যোক্তারা। তাদের উদ্ভাবন, সাহস ও পরিশ্রম আমাদের দেশের নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এ যেন প্রযুক্তি আর জাতীয়তাবাদের সমবেত জয়যাত্রা।