টেক ডেস্কঃ শত্রুঘাঁটির অনেক ভিতরে, ৩০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যেও নিখুঁত আঘাত হানার ক্ষমতা পেতে চলেছে ভারতীয় সেনা। সেই লক্ষ্যেই Pinaka Mk4 তৈরির কাজ চালাচ্ছে ডিআরডিও। এই বহুনল রকেট লঞ্চার সাধারণ রকেট আর্টিলারি এবং স্বল্প পাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইলের মাঝের ফাঁক ভরাট করবে।
আরসিআই হায়দরাবাদ-সহ একাধিক দরপত্রের নথি বলছে, এতে থাকবে ৩৭০ মিমি ব্যাসের রকেট মোটর। পুরনো Pinaka Mk-1 ও Mk-2-তে এই ব্যাস ছিল ২১৪ মিমি। ব্যাস বাড়লে রকেটের ভিতরে অনেক বেশি কঠিন জ্বালানি ভরা যায়, আর সেটাই বাড়তি পাল্লার চাবিকাঠি। পাশাপাশি জায়গা মিলছে ইনার্শিয়াল নেভিগেশন (রকেট নিজের গতিবিধি মেপে পথ ঠিক রাখার প্রযুক্তি) এবং শেষ ধাপের গাইডেন্স ব্যবস্থার জন্যও। এই প্রযুক্তিই রকেটকে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছে দেবে।
শত্রুর কমান্ড সদর দফতর, রসদ কেন্দ্র কিংবা বায়ুরক্ষা ঘাঁটির মতো গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যই হবে এর নিশানা। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন ATACMS-এর মতোই ভূমিকা নেবে এই রকেট, তবে আলাদা ব্যালিস্টিক মিসাইল ইউনিটের বিপুল লজিস্টিক ঝক্কি ছাড়াই। তবে রকেট বড় ও ভারী হওয়ায় একটি লঞ্চারে কম রকেট ধরবে। তাই মজুত ও ছোড়ার প্ল্যাটফর্মে বদল আনতে হবে। এক সঙ্গে বেশি সংখ্যক রকেট ছোড়ার জন্য পুরনো Pinaka-ও পাশে রাখবে সেনা।
এলআরজিআর (ELRGR) নামেও পরিচিত এই রকেট প্রস্তাবিত ইন্টিগ্রেটেড রকেট ফোর্সের মেরুদণ্ড হতে পারে। প্রলয় মিসাইলের সঙ্গে জুড়ে নানা দূরত্বে একসঙ্গে হামলা চালানো যাবে। ২০২৮ সাল থেকে প্রাথমিক উৎপাদন ও পরীক্ষা শুরুর কথা, আর সব ঠিক থাকলে ২০৩০ সালে বাহিনীতে অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্য। এতে পুরনো রুশ স্মার্চ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতাও কমবে।