টেক ডেস্কঃ ভারত সিন্ধু জল চুক্তির ভবিষ্যৎ পাকিস্তানের সন্ত্রাস দমনের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করেছে, ইসলামাবাদের আবেদন দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। “রক্ত ও জল একসঙ্গে প্রবাহিত হতে পারে না” – এই নীতির উপর ভিত্তি করে ভারতের এই কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে, যা এপ্রিল ২০২৫ সালে জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে পাকিস্তান-পৃষ্ঠপোষকতার একটি মারাত্মক সন্ত্রাসী হামলার পর এসেছে, যেখানে ২৬ জন নিরীহ মানুষ নিহত হয়েছিলেন।
পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার সম্প্রতি একটি ভার্চুয়াল সেমিনারে ভারতের এপ্রিল ২০২৫-এর চুক্তি স্থগিতের সিদ্ধান্তকে ভিত্তিহীন বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি সিন্ধু জল চুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন যে এটি ২৫ কোটিরও বেশি পাকিস্তানি মানুষের জল সুরক্ষা, কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দার আঞ্চলিক পরিণতির বিষয়ে সতর্ক করেন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের উপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের আহ্বান জানান।
তবে ভারত তার অবস্থানে অটল। নয়াদিল্লি স্পষ্ট জানিয়েছে যে, সীমান্তপারের সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কগুলি ভেঙে দিতে পাকিস্তান যদি যাচাইযোগ্য এবং অপরিবর্তনীয় পদক্ষেপ নেয়, তবেই চুক্তির কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। এই নীতি একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে: সীমান্তপারের সহিংসতা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত সম্পদ সহযোগিতা সম্ভব নয়।
চলমান চুক্তি স্থগিতের ফলে আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তানের কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতা এবং দুর্বলতা স্পষ্ট হয়েছে। ইসলামাবাদ যেখানে আন্তর্জাতিক সমর্থন চাইছে, সেখানে ভারতের দৃঢ় অবস্থান বিশ্বজুড়ে পাকিস্তানের সন্ত্রাস দমনে ব্যর্থতার দিকেই মনোযোগ আকর্ষণ করছে। এই ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত দক্ষিণ এশিয়ায় জল সুরক্ষা, আঞ্চলিক কূটনীতি এবং সন্ত্রাস দমন প্রচেষ্টার গভীর সম্পর্ককে তুলে ধরে, যেখানে ভারত তার জাতীয় সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।