কল্পনা করুন তো, অফিসে আপনার ল্যাপটপে কাজ করছেন, আর মেসেজ আসছে ট্যাবলেটে; হাতে থাকা ফোনটি হয়তো ঘরের অন্য কোণে পড়ে আছে, কিন্তু আপনার জরুরি WhatsApp চ্যাট বা কল কোনো কিছুই মিস হচ্ছে না! হ্যাঁ, বহু প্রতীক্ষিত এই স্বপ্নই এবার সত্যি করলো মেটা-এর মালিকানাধীন জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম WhatsApp। ব্যবহারকারীদের জন্য সম্প্রতি চালু হয়েছে তাদের নতুন ও স্মার্ট ফিচার— ‘কম্প্যানিয়ন মোড‘ (Companion Mode)।
এই দুর্দান্ত আপডেটের মাধ্যমে এখন থেকে একটি WhatsApp অ্যাকাউন্ট দিয়েই একসাথে চারটি ভিন্ন ডিভাইসে চ্যাট, কল, ছবি আদান-প্রদান এবং রিয়েল-টাইম আপডেট পাওয়া যাবে। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এর জন্য কোনো অতিরিক্ত সিম কার্ড বা সাবস্ক্রিপশন চার্জের প্রয়োজন নেই! শুধু একটি সাধারণ কিউআর (QR) কোড স্ক্যান করলেই আপনার দৈনন্দিন জীবন হয়ে উঠবে আরও বেশি সহজ ও নিরবিচ্ছিন্ন।
কী এই ‘কম্প্যানিয়ন মোড‘?
WhatsApp-এর এই ফিচারটি মূলত আগের ‘মাল্টি-ডিভাইস’ ফিচারের একটি উন্নত সংস্করণ। এই মোড আপনাকে আপনার প্রাইমারি অর্থাৎ প্রধান ফোনটির পাশাপাশি আরও তিনটি সেকেন্ডারি ডিভাইস—যেমন, একটি ল্যাপটপ, একটি ট্যাবলেট এবং একটি অতিরিক্ত ফোন—একই অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সংযুক্ত রাখতে সাহায্য করে।
ফিচারটি চালু হয়ে যাওয়ার পর মেসেজ পাঠানো, রিসিভ করা কিংবা ভয়েস/ভিডিও কল—সবকিছুই ইনস্ট্যান্টলি সব কটি ডিভাইসে সিঙ্ক (Sync) হয়। এর সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো: এখন প্রাইমারি ফোনটি যদি অফলাইন বা বন্ধও থাকে (যদিও ম্যানুয়াল ব্যাকআপের মতো কিছু ফিচার কাজ করবে না), তবুও বাকি সেকেন্ডারি ডিভাইসগুলি থেকে চ্যাটিং এবং যোগাযোগের কাজ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব। এটি Android, iOS, Windows, এবং macOS সহ প্রায় সমস্ত প্ল্যাটফর্মেই দারুণভাবে কাজ করবে। নিরাপত্তার বিষয়ে WhatsApp বরাবরের মতোই সচেতন, তাই এতেও থাকছে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশনের (End-to-End Encryption) সম্পূর্ণ সুরক্ষা।
কেন এটি আপনার জন্য এত জরুরি?
আজকের দিনে আমরা প্রায় সবাই মাল্টিটাস্কিং করি। কখনও অফিসের Dell বা HP ল্যাপটপে গুরুত্বপূর্ণ মিটিং চলছে, আবার কখনও বাড়িতে Samsung বা Apple iPad ট্যাবলেটে চলছে চ্যাট। এই পরিস্থিতিতে বারবার ফোন হাতে নেওয়ার ঝক্কি পোহাতে হবে না। একই অ্যাকাউন্ট পরিবারের সবাই সহজে ভাগ করে ব্যবহার করতে পারবে। এটি একদিকে যেমন আপনার উৎপাদনশীলতা (Productivity) বাড়াবে, তেমনই ফোনের ব্যাটারিও বাঁচাবে।
সহজেই কীভাবে সেটআপ করবেন?
প্রথমেই নিশ্চিত করুন যে আপনার WhatsApp অ্যাপ্লিকেশনটি আপডেটেড (ভার্সন ২.২৫.১০.৮৫ বা তার উপরে) এবং ইন্টারনেট সংযোগ ঠিকঠাক আছে।
স্টেপ-বাই-স্টেপ গাইড:
১. অ্যান্ড্রয়েড ফোনে (প্রাইমারি): WhatsApp খুলুন > সেটিংস (Settings) > লিঙ্কড ডিভাইসেস (Linked Devices) > লিঙ্ক এ ডিভাইস (Link a Device)।
২. সেকেন্ডারি ডিভাইসে: সেই ডিভাইসেও WhatsApp খুলে একইভাবে সেটিংস > লিঙ্কড ডিভাইসেস > লিঙ্ক এ ডিভাইস সিলেক্ট করুন।
৩. এরপর, প্রাইমারি ফোনের ক্যামেরা দিয়ে সেকেন্ডারি ডিভাইসের স্ক্রিনে দেখানো কিউআর কোডটি স্ক্যান করুন।
৪. দুই ফোনেই কনফার্ম করলেই বাকি সব তথ্য অটোমেটিক সিঙ্ক হয়ে যাবে!
আইফোন (iPhone) বা আইপ্যাড (iPad) ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রেও পদ্ধতিটি প্রায় একই। ডেস্কটপ বা ল্যাপটপে ব্যবহার করার জন্য WhatsApp-এর অফিসিয়াল সাইট (whatsapp.com/download) থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করে কিউআর স্ক্যান করলেই কাজ হয়ে যাবে।
যদিও এই ফিচারটি দারুণ, তবুও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। যেমন: প্রাইমারি ফোনটি ছাড়া আপনি ম্যানুয়াল ব্যাকআপ (Manual Backup) নিতে পারবেন না। সব ডিভাইসে ডেটা সিঙ্ক করার জন্য সামান্য বেশি ব্যাটারি খরচ হতে পারে। তবে, সব দেশেই দ্রুত এটি সম্পূর্ণরূপে চালু হয়ে যাচ্ছে।