ভারতে দ্রুত বেড়ে চলা সাইবার প্রতারণা ঠেকাতে Department of Telecommunications (DoT) নতুন ও কঠোর নিয়ম জারি করেছে। আগামী ৯০ দিনের মধ্যে জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ— WhatsApp, Telegram, Snapchat, Signal, ShareChat, Josh, JioChat—সহ সব কমিউনিকেশন অ্যাপকে বাধ্যতামূলকভাবে SIM Binding সিস্টেম চালু করতে হবে।
DoT জানিয়েছে, ভারতীয় মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে বিদেশ থেকে নানা ধরনের জালিয়াতি পরিচালিত হচ্ছে। প্রতারকরা একবার লগইন করে SIM খুলে ফেলেন এবং বিদেশে বসে সেই অ্যাকাউন্ট চালান। এতে তাদের শনাক্ত করা খুব কঠিন হয়ে পড়ে।
SIM Binding কী?
সহজ ভাষায়, SIM Binding মানে অ্যাপটি সবসময় সেই সক্রিয় SIM-এর সঙ্গেই যুক্ত থাকবে, যেটা দিয়ে আপনার অ্যাকাউন্ট রেজিস্টার করা হয়েছে।
অর্থাৎ—
- যদি আপনার WhatsApp-এর সঙ্গে SIM A যুক্ত থাকে,
- তাহলে ফোনের ভেতর SIM A থাকা বাধ্যতামূলক।
SIM খুলে ফেললেই বা অন্য ডিভাইসে ব্যবহার করলেই অ্যাপ কাজ বন্ধ করবে।
ব্যাংকিং ও UPI অ্যাপে এই নিয়ম আগে থেকেই আছে। এখন মেসেজিং অ্যাপেও তা লাগু হচ্ছে কারণ প্রতারকরা এগুলো অপব্যবহার শুরু করেছে।
এতে WhatsApp / Telegram / Snapchat ব্যবহার কীভাবে বদলাবে?
সাধারণ ব্যবহারকারীর জন্য তেমন বড় পরিবর্তন হবে না। ফোনে SIM থাকলে সব স্বাভাবিক চলবে। তবে চারটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসছে—
অ্যাপ এখন SIM-এর সাথে স্থায়ীভাবে যুক্ত থাকবে
আপনি SIM ছাড়া বা অন্য ডিভাইসে WhatsApp/Telegram ব্যবহার করতে পারবেন না।
Web Version স্বয়ংক্রিয়ভাবে ৬ ঘণ্টা পর Logout
যারা WhatsApp Web বা Telegram Web ব্যবহার করেন—
- প্রতি ৬ ঘণ্টা পর নিজে থেকেই লগআউট হবে
- আবার QR কোড দিয়ে রিলিঙ্ক করতে হবে
- এতে বিদেশে বসে দীর্ঘসময় ধরে চলা জালিয়াতি বন্ধ হবে
SIM খুলে অ্যাপ চালানো আর সম্ভব নয়
আগে মাসের পর মাস SIM ছাড়াই WhatsApp চলত।
এখন অ্যাপ নিয়মিতভাবে SIM শনাক্ত করবে।
বাড়বে ট্রেসেবিলিটি
এখন সব অ্যাকাউন্ট সরাসরি KYC-verified SIM-এর সঙ্গে যুক্ত থাকবে।
অপরাধীরা সহজে লুকোতে পারবে না।
নিয়ম না মানলে কী শাস্তি হবে?
- অ্যাপগুলির হাতে ৯০ দিন সময় SIM Binding চালুর জন্য
- ১২০ দিনের মধ্যে দিতে হবে Compliance Report
নির্দেশ না মানলে Telecom Cyber Security Rules অনুযায়ী—
- আর্থিক জরিমানা
- অপারেশনাল সীমাবদ্ধতা
- এমনকি অ্যাপ ব্লক করার মতো কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে
এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার মূল কারণ কী?
২০২৪ সালে ভারতে সাইবার প্রতারণার পরিমাণ ₹২২,৮০০ কোটি ছাড়িয়ে গেছে।
সবচেয়ে বেশি বেড়েছে—
- ডিজিটাল অ্যারেস্ট স্ক্যাম
- ইনভেস্টমেন্ট ফ্রড
- পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা
- ফিশিং ও OTP স্ক্যাম
এর বড় অংশই বিদেশে বসে ভারতীয় নম্বর ব্যবহার করে করা হয়।
DoT মনে করছে, SIM Binding এই ধরনের প্রতারণা কার্যত অসম্ভব করে তুলবে।