কুইক কমার্সের ময়দানে ব্লিঙ্কিট, সুইগি, বিগবাস্কেটের ঘুম ছুটল! বাজার দখলে হাজির রিলায়েন্স

Reliance

ভারতের অনলাইন কেনাকাটার জগতে এক বিশাল ঝড় আসতে চলেছে। এই খবর শুধু ব্যবসার দুনিয়ায় নয়, সাধারণ গ্রাহকদের জন্যও খুব গুরুত্বপূর্ণ। দেশের অন্যতম বৃহৎ সংস্থা রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের অংশ রিলায়েন্স রিটেল এবার ‘কুইক কমার্স’ বা খুব দ্রুত পণ্য ডেলিভারির বাজারে পুরোপুরি ঝাঁপিয়ে পড়ল।

এই প্রতিযোগিতায় নামতে রিলায়েন্স গত ছয় মাসে সারা দেশ জুড়ে ৬০০টিরও বেশি ‘ডার্ক স্টোর’ খুলে ফেলেছে। এই বিশেষ স্টোরগুলো থেকে তারা মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে গ্রাহকদের হাতে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। এর ফলে, এই মুহূর্তে দ্রুত ডেলিভারির বাজারে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখা কোম্পানিগুলো, যেমন— ব্লিঙ্কিট (Blinkit), সুইগি ইনস্টামার্ট (Swiggy Instamart) এবং বিগবাস্কেটের (Big basket) জন্য প্রতিযোগিতা আরও মারাত্মক হয়ে উঠবে।

জিওমার্টের রকেটের গতি: শুধু মুদি নয়, ইলেকট্রনিক্সও!

রিলায়েন্সের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম জিওমার্ট এর মাধ্যমেই দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। তাদের ব্যবসার পরিসংখ্যান দেখলে চোখ কপালে উঠবে! গত ত্রৈমাসিকেই জিওমার্টের দৈনিক অর্ডারের সংখ্যা ৪২ %  বেড়েছে, আর গত বছরের তুলনায় এই বৃদ্ধি ২০০% এরও বেশি!

এখন তারা শুধু চাল-ডাল বা মুদি সামগ্রী নয়, স্মার্টফোন, ল্যাপটপ বা অন্যান্য ইলেকট্রনিক্স এবং অ্যাকসেসরিজও মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে ডেলিভারি করছে। প্রথম ধাপে এই পরিষেবা শুরু হয়েছে দেশের ১০টি বড় শহরে।

বিশাল নেটওয়ার্কই রিলায়েন্সের আসল শক্তি

রিলায়েন্সের চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার (CFO) দীনেশ তালুজা এই বিষয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন। তাঁর কথায়, “আমাদের ব্যবসার নেটওয়ার্ক এত বড় যে অন্য কোনো কোম্পানির সঙ্গে এর তুলনা চলে না। আমরা দেশের প্রায় ১০০০টি শহরে উপস্থিত আছি। সেখানে প্রতিযোগীরা এখনও মাত্র ১০-২০টা বড় শহরেই নিজেদের সীমাবদ্ধ রেখেছে।”

এই বড় সুবিধা কাজে লাগিয়েই রিলায়েন্স রিটেল পুরো বাজারটা নিজেদের দখলে আনতে চাইছে।

‘ডার্ক স্টোর’ কী? কেন এটা এত কার্যকর?

এই ‘ডার্ক স্টোর’ হলো বিশেষ ধরনের ছোট গুদাম, যেখানে সাধারণ গ্রাহকদের সরাসরি প্রবেশাধিকার নেই। এগুলো তৈরিই হয়েছে শুধু দ্রুত ডেলিভারির জন্য। একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের চাহিদা ও অর্ডারের ওপর ভিত্তি করে এই স্টোরগুলো কাজ করে।

দীনেশ তালুজা আরও বলেছেন, “রিলায়েন্সের ফিজিক্যাল স্টোরগুলো (যেমন রিলায়েন্স ফ্রেশ, রিলায়েন্স ডিজিটাল) বহু বছর ধরে চলছে। তাই আমাদের কাছে এই তথ্য আছে যে কোন অঞ্চলে কী ধরনের পণ্যের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এই ডেটা বা তথ্য আমাদের অনেক বড় সুবিধা দেবে। আমরা বড় শহরগুলোতে প্রতিযোগীদের থেকে গ্রাহকদের ছিনিয়ে নেব, আর ছোট শহরগুলোতে আগেই নিজেদের মজবুত করে ফেলব।”

গ্রাহকের জন্য ভালো খবর: প্রতিযোগিতা বাড়লে সুবিধা বাড়ে!

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রিলায়েন্সের এই বড় পদক্ষেপের কারণে দ্রুত ডেলিভারি বা ‘কুইক কমার্স’-এর বাজার আরও বেশি প্রতিযোগিতামূলক হবে। বাজারে লড়াই বাড়লে সাধারণত লাভ হয় গ্রাহকদেরই। সবাই এখন আরও সস্তা দামে এবং আরও দ্রুত ডেলিভারি পাবেন।

অর্থনৈতিক দিক থেকেও রিলায়েন্স রিটেল শক্তিশালী

ব্যবসার এই উদ্যোগের পাশাপাশি রিলায়েন্স রিটেলের আর্থিক অবস্থাও বেশ শক্তিশালী। সেপ্টেম্বর  মাস অবধি তাদের মোট আয় (গ্রস রেভেনিউ) হয়েছে ৯০,০১৮ কোটি টাকা, যা গতবারের তুলনায় ১৮%  বেশি। লাভও ২১.৯ %  বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩,৪৫৭ কোটি টাকায়। গোটা ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে তাদের মোট আয় ছিল ৩.৩০ লক্ষ কোটি টাকা

এই খবর থেকে পরিষ্কার, ভারতের অনলাইন কেনাকাটার জগতে এক নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে। রিলায়েন্সের এই পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে গ্রাহকদের জন্য সুবিধা বাড়াবে, তবে বাজারের অন্য কোম্পানিগুলোকে টিকে থাকতে হলে এবার আরও কঠিন লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হতে হবে।

এই মুহূর্তে

আগস্ট ২০২৬-এ আসছে Google Pixel 11, Vivo S2 সহ ৫টি সেরা smartphones launching in August 2026: সম্পূর্ণ তালিকা!

Hugging Face প্ল্যাটফর্মে ভয়ঙ্কর AI Deepfake-এর রমরমা: নারী ও শিশুদের টার্গেট করে তৈরি হচ্ছে অশালীন ছবি

ভারতীয় বিমান বাহিনী চালু করলো ‘সংকল্প-২০২৬’: রুশ যুদ্ধবিমানের দেশীয়করণে নতুন দিগন্ত

মহাকাশে আত্মনির্ভর ভারত: নভোচারী প্রযুক্তির দেশীয় উন্নয়নে জোরালো পদক্ষেপ