ছোট অঙ্কের লোন নিয়ে স্মার্টফোন কেনা আজকাল বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কিন্তু যদি কোনো কারণে লোনের কিস্তি শোধ করতে না পারেন, তাহলে আপনার সাধের স্মার্টফোনটি অচল হয়ে যেতে পারে। এমনটাই করতে চলেছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)। এই নতুন নিয়মের উদ্দেশ্য হলো, ব্যাঙ্ক এবং অন্যান্য নন-ব্যাঙ্কিং ফিনান্সিয়াল কোম্পানি (NBFC) গুলিকে ছোট অঙ্কের লোনের টাকা আদায় করার জন্য গ্রাহকের স্মার্টফোন লক করার ক্ষমতা দেওয়া। এই খবরটি ইতিমধ্যেই যথেষ্ট উদ্বেগ তৈরি করেছে, কারণ এতে ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠছে।
কেন এই নতুন নিয়ম?
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ছোট লোনের ডিফল্ট বা বকেয়া কিস্তির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বহু মানুষ মোবাইল ফোন বা অন্যান্য ইলেকট্রনিক্স কেনার জন্য লোন নিচ্ছেন, কিন্তু কিস্তি (EMI) শোধ না করেই পালিয়ে যাচ্ছেন। এই সমস্যা মোকাবিলা করতেই RBI এই পদক্ষেপ নিচ্ছে। যদিও অতীতে বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে এই ধরনের ফোন লক করার ব্যবস্থা ছিল, কিন্তু RBI গত বছর এই পদ্ধতিতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। এখন তারা ‘ফেয়ার প্র্যাকটিস কোড’ বা সৎ অনুশীলন বিধি সংশোধন করে একটি নতুন নির্দেশিকা জারি করতে চলেছে। শোনা যাচ্ছে, এই নিয়মটি আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই কার্যকর হতে পারে, যদিও এখনও কোনো সরকারি নির্দেশ আসেনি।
কীভাবে কাজ করবে এই প্রযুক্তি?
ধরুন, আপনি হোম ক্রেডিট ফাইন্যান্স বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে একটি স্মার্টফোন কেনার জন্য লোন নিলেন। লোনের টাকা নেওয়ার সময় লেন্ডার বা লোনদাতা সংস্থা আপনার ফোনে একটি বিশেষ অ্যাপ ইনস্টল করবে, যেমন গুগল ডিভাইস লক কন্ট্রোলার বা স্যামসাং ফাইন্যান্স+ (কেবলমাত্র স্যামসাং ব্যবহারকারীদের জন্য)। এই অ্যাপ ইনস্টল করার আগে আপনার থেকে অনুমতি নেওয়া হবে। এরপর যদি আপনি লোনের কিস্তি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শোধ না করেন, তাহলে এই অ্যাপটি আপনার ফোনটিকে সম্পূর্ণ লক করে দেবে। এর ফলে আপনি ফোনটি আর ব্যবহার করতে পারবেন না। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে লোনদাতা সংস্থা আপনার কোনো ব্যক্তিগত তথ্য বা ডেটা দেখতে বা অ্যাক্সেস করতে পারবে না। তাই গোপনীয়তা রক্ষা করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভারতের বাজারে লোনের গুরুত্ব
ভারতে মোবাইল ফোন বা অন্যান্য ইলেকট্রনিক্স কেনার জন্য ছোট লোনের চাহিদা অনেক। হোম ক্রেডিট ফাইন্যান্স-এর ২০২০ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুযায়ী, ভারতে ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীর এক-তৃতীয়াংশই ছোট লোনের মাধ্যমে কেনা হয়। ভারতের ১৪০ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে ১১৬ কোটিরও বেশি মোবাইল সংযোগ রয়েছে। লোনদাতা সংস্থাগুলির জন্য এই নিয়মটি লোনের টাকা পুনরুদ্ধার সহজ করবে, কারণ বকেয়া লোনের পরিমাণ কমবে। তবে যারা লোন নেন তাদের জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ফোন লক হয়ে গেলে দৈনন্দিন জীবনের বহু জরুরি কাজ ব্যাহত হতে পারে।
RBI-এর এই পদক্ষেপ লোনের বাজারকে আরও সুশৃঙ্খল করবে বলে মনে করা হচ্ছে। যদি আপনিও ছোট লোন নেওয়ার কথা ভাবেন, তাহলে কিস্তি (EMI) শোধের ব্যাপারে যথেষ্ট সতর্ক থাকতে হবে। তবে চূড়ান্ত নিয়ম কী হবে, সে বিষয়ে সরকারি নির্দেশের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।