Techne And Logos

উৎক্ষেপণ হতে চলেছে বিশ্বের সবচেয়ে দামী স্যাটেলাইট NISAR ভারতের মাটি থেকে! কোথায়, কবে, কখন দেখবেন এই ঐতিহাসিক ঘটনা?

NISAR

ভারতের শ্রীহরিকোটা থেকে ৩০ জুলাই সন্ধ্যে ৫:৪০ টায় উৎক্ষেপণ হতে চলেছে এক ঐতিহাসিক পৃথিবী পর্যবেক্ষণ স্যাটেলাইট – NASA-ISRO Synthetic Aperture Radar (NISAR)। এটি যৌথভাবে তৈরি করেছে ISRO (Indian Space Research Organisation) এবং NASA (National Aeronautics and Space Administration)। এই স্যাটেলাইটটির দাম প্রায় $1.5 বিলিয়ন, অর্থাৎ প্রায় ১২,৫০০ কোটি টাকা, যা একে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল পৃথিবী পর্যবেক্ষণ স্যাটেলাইট হিসেবে পরিচিত করে তুলেছে।

চলুন দেখে নেওয়া যাক এই মিশন সম্পর্কিত ৫টি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য—

১. 3D-তে পৃথিবীর পৃষ্ঠের অতি সূক্ষ্ম ছবি

NISAR-এ থাকবে দুটি উন্নত Synthetic Aperture Radar (SAR) – L-band ও S-band। এগুলি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে পৃথিবীর পৃষ্ঠে এক ইঞ্চিরও কম পরিবর্তন ধরা পড়ে! দিন-রাত, মেঘ বা হালকা বৃষ্টির মধ্যেও এটি একটানা কাজ করতে পারবে। বিশেষত, আণ্টার্কটিকার বরফচাদরের পরিবর্তন বুঝতে এটি হবে এক অনন্য প্রযুক্তি।

২. প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট বিপর্যয় শনাক্তকরণে সহায়ক

ভূমিকম্প বা ধ্বসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বাভাস পেতে এই স্যাটেলাইট বিশেষভাবে কার্যকর। NASA জানিয়েছে, NISAR ভূস্তরের এমন জায়গাগুলি শনাক্ত করতে পারবে যেগুলি থেকে ভূমিকম্প শুরু হতে পারে। আবার ড্যাম, কৃত্রিম বাঁধ বা জলাধার সংলগ্ন ভূমি দুর্বল হয়ে পড়ছে কিনা, তাও আগেভাগে জানা যাবে।

৩. বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত রাডার প্রযুক্তি

NISAR-এর মূল দেহে থাকবে দুটি রাডার পে-লোড — একদিকে L-band ও অন্যদিকে S-band। এগুলি পৃথিবীর ভূমি ও বরফের উপর নানা ধরণের ডেটা সংগ্রহ করবে, যেমন: আর্দ্রতা, ভূমির খসখসে ভাব ও নড়াচড়া। প্রতিদিন এটি প্রায় ৮০ টেরাবাইট তথ্য জমা করবে যা ক্লাউড-এ সংরক্ষিত থাকবে এবং বিশ্বজুড়ে গবেষকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

৪. বিশ্বের নানা ইকোসিস্টেমের নজরদারি

বিশ্বের বনাঞ্চল, জলাভূমি, কৃষিজমি থেকে শুরু করে চিরহিমভূমি (Permafrost) পর্যন্ত এই স্যাটেলাইট নজরদারি চালাবে। L-band রাডার গাছপালার ঘনত্ব ভেদ করে গভীর অভ্যন্তরের কাঠামো বুঝতে সাহায্য করে, আর S-band মূলত ফসল চাষের ক্ষেত্র বিশ্লেষণে ব্যবহৃত হবে।

৫. প্রথম ISRO-NASA যৌথ উদ্যোগ

এই মিশন হল ISRO ও NASA-র মধ্যে প্রথম বড়সড় টেকনিক্যাল সহযোগিতা। S-band রাডার তৈরি হয়েছে ISRO’র স্পেস অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার, আহমেদাবাদ থেকে, আর L-band রাডার এসেছে NASA’র জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরি, ক্যালিফোর্নিয়া থেকে। পরে এগুলি ISRO I3K বাস-এর উপর সংযুক্ত করে মে মাসে শ্রীহরিকোটা পাঠানো হয়।

বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে এর উৎক্ষেপণ অনেকবার পিছিয়েছে, তবে এবার সব প্রস্তুতি সম্পূর্ণ।

NISAR শুধু বিজ্ঞানীদের গবেষণার খোরাক নয়, বরং সাধারণ মানুষের জীবনেও বিশাল ভূমিকা রাখবে। দুর্যোগের আগে সতর্কবার্তা দেওয়া, কৃষি উন্নয়ন, জলসম্পদ রক্ষা – সবই হবে এই মহাকাশযানের নজরদারিতে। এটা নিঃসন্দেহে ভারত ও আমেরিকার মহাকাশ সহযোগিতার এক গর্বের অধ্যায়।

চোখ রাখুন ৩০ জুলাই সন্ধ্যে ৫:৪০-এ, ইতিহাস গড়তে চলেছে ভারতীয় মাটি থেকে আন্তর্জাতিক মহাকাশ অভিযান!

এই মুহূর্তে

ভারতের ২০,০০০ কোটি টাকার হালকা হেলিকপ্টার প্রকল্পের অনুমোদন, প্রতিরক্ষা খাতে নতুন দিগন্ত

Xiaomi 18 Pro এবং 18 Pro Max-এর আগাম ঝলক: ফাঁস হল দাম ও নতুন ভেলভেট রেড রঙ!

Hero Karizma XMR 250 লাল রঙে ডিলারশিপে! লঞ্চের দিনক্ষণ কি তবে আসন্ন?

Motorola Edge 70 Neo আসছে ভারতে! ফাঁস হল শক্তিশালী ব্যাটারি ও দুর্দান্ত ক্যামেরার খুঁটিনাটি