Instagram ও WhatsApp বিক্রি করতে হবে মার্ক জুকারবার্গকে? বিপাকে Meta

Meta, ফেসবুক, Instagram এবং হোয়াটসঅ্যাপের মতো জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের মালিক, এখন একটি বড় আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখি। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশন (FTC) Meta-র বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তারা বলছে, Meta Instagram এবং WhatsApp কিনে প্রতিযোগিতা কমিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ার বাজারে একচেটিয়া আধিপত্য বজায় রেখেছে। এই মামলায় FTC জিতলে Metaকে Instagram এবং WhatsApp বিক্রি করতে হতে পারে। এই খবর সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়ের গতিতে বেড়ে চলেছে।

মামলার শুরু হলো কবে?

গত ১৪ এপ্রিল, ২০২৫ থেকে ওয়াশিংটনে এই মামলার শুনানি শুরু হয়েছে। Meta-র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জুকারবার্গ নিজে আদালতে হাজির হয়ে তাঁর সংস্থার পক্ষে সাফাই গেয়েছেন। FTC বলছে, Meta তাদের প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে লড়াই করার পরিবর্তে তাদের কিনে নিয়েছে, যা বাজারে প্রতিযোগিতার জন্য ক্ষতিকর।

কেন এই অভিযোগ?

FTC-র মূল অভিযোগ হলো, Meta ২০১২ সালে Instagram এবং ২০১৪ সালে WhatsApp কিনে নিয়ে তাদের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের মুখ বন্ধ করে দিয়েছে। FTC-র আইনজীবী ড্যানিয়েল ম্যাথেসন বলেছেন, Meta এই সংস্থাগুলো কিনেছে শুধুমাত্র তাদের বাজারে আধিপত্য ধরে রাখতে। তিনি ২০১২ সালের একটি অভ্যন্তরীণ চিঠির কথা উল্লেখ করেছেন, যেখানে জুকারবার্গ Instagramকে নিষ্ক্রিয়করার কথা বলেছিলেন। FTC বলছে, এই ধরনের কাজ সোশ্যাল মিডিয়ার বাজারে নতুন সংস্থার জন্য প্রবল অসুবিধার সৃষ্টি করেছে।

Meta-র জবাব

Meta-র পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তারা Instagram এবং WhatsApp কেনার সময় FTC নিজেই এই ক্রয়-বিক্রয় পরীক্ষা করে অনুমোদন দিয়েছিল। তাদের দাবি, এই অধিগ্রহণ ব্যবহারকারীদের জন্য ভালো ফল দিয়েছে এবং সোশ্যাল মিডিয়ার উন্নতি ঘটিয়েছে। Metaর আইনজীবীরা বলছেন, FTC এখন পুরোনো সিদ্ধান্ত বদলাতে চাইছে, যা অন্যায়।

এই মামলার ফলাফল

যদি FTC এই মামলায় জয়ী হয়, তাহলে Meta-কে Instagram এবং WhatsApp বিক্রি করতে হতে পারে। এটি Meta-র ব্যবসার উপর বড় প্রভাব ফেলবে। কারণ, Instagram এখন Metaর আয়ের একটি বড় অংশের উৎস। ২০২৫ সালে Instagram Meta-র মোট বিজ্ঞাপন আয়ের প্রায় অর্ধেকেরও বেশি জোগান দেবে আশা করা হচ্ছে। WhatsAppও বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি মানুষের কাছে জনপ্রিয়। এই দুটি প্ল্যাটফর্ম হারালে Meta-র বাজারে প্রভাব অনেক কমে যেতে পারে।

অন্যদিকে, Meta যদি মামলায় জেতে, তাহলে তাদের বর্তমান ব্যবসায়িক কাঠামো অটুট থাকবে।

এই মামলা শুধু Meta-র জন্যই নয়, পুরো প্রযুক্তি জগতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এটি দেখাবে যে বড় সংস্থাগুলো কীভাবে ছোট সংস্থা কিনে নিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ করে। যদি Meta-র বিরুদ্ধে রায় যায়, তাহলে ভবিষ্যতে অন্যান্য প্রযুক্তি সংস্থার উপরও এমন নিয়ম আরো কঠোর হতে পারে। এটি ব্যবহারকারীদের জন্যও ভালো হতে পারে, কারণ বাজারে আরো প্রতিযোগিতা মানে নতুন এবং উন্নত পরিষেবা।

এই মামলা কয়েক সপ্তাহ ধরে চলবে। মার্ক জুকারবার্গ ছাড়াও Meta-র প্রাক্তন কর্মকর্তা শেরিল স্যান্ডবার্গ এবং Instagram ও WhatsApp-এর আবিষ্কর্তারাও সাক্ষী হিসেবে আদালতে থাকবেন। FTC এবং Meta উভয়েই তাদের নিজ নিজ যুক্তি ও প্রমাণ উপস্থাপন করবে। আদালতের রায়ের উপর নির্ভর করছে Meta-র ভবিষ্যৎ এবং সোশ্যাল মিডিয়ার বাজারের গতিপ্রকৃতি।

আমরা প্রতিদিন ফেসবুক, Instagram বা WhatsApp ব্যবহার করি। এই মামলার ফলাফল আমাদের এই অ্যাপগুলো ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকেও প্রভাবিত করতে পারে। যদি Instagram এবং WhatsApp আলাদা সংস্থা হয়ে যায়, তাহলে তাদের বৈশিষ্ট্যে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। তবে এটি নতুন সংস্থার জন্যও সুযোগ তৈরি করবে, যারা হয়তো আমাদের জন্য আরো ভালো কিছু নিয়ে আসবে।

এই মুহূর্তে

গোপনীয়তার সুরক্ষায় আপোষ নয়! অ্যাপলের স্মার্ট গ্লাস আসতে বিলম্ব, মেটার ভুল থেকে শিক্ষা নিচ্ছে সংস্থা

খাদ্য সরবরাহ শিল্পে প্রবেশ করছে ফ্লিপকার্ট! জোম্যাটো, সুইগি-র কপালে চিন্তার ভাঁজ?

অ্যানথ্রপিক-এর স্যামসাং ও এসকে হাইনিক্স-এর সাথে বড় AI চিপ চুক্তি, কাস্টম চিপের দৌড়ে নতুন মোড়

র‍্যামের দাম আকাশছোঁয়া, iPhone 18 Pro Max-এর OLED ডিসপ্লেতে খরচ কমাতে মরিয়া Apple