দক্ষিণ কোরিয়ার অন্যতম বড় টেক সংস্থা LG Group এবার পা বাড়াচ্ছে মহাকাশে! হ্যাঁ ঠিকই শুনেছেন—TV, ফ্রিজ আর স্মার্টফোন বানানোতেই সীমাবদ্ধ নয় আর LG, এবার তারা নজর দিয়েছে চাঁদের দিকে। তাদের লক্ষ্য, 2032 সালের মধ্যে চাঁদে অবতরণ এবং 2035 সালের মধ্যে পুনঃব্যবহারযোগ্য লঞ্চ ভেহিকল তৈরি করা।
KASA-র সঙ্গে গাঁটছড়া
সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার Korea Aerospace Administration (KASA)-এর সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসে LG। এই বৈঠকে অংশ নেন KASA –র প্রশাসক Yun Young-bin, যিনি Seoul-এর LG Science Park-এ গিয়ে LG R&D Team-এর সঙ্গে আলোচনা করেন। LG স্পষ্ট জানায়, তারা এখন মহাকাশ শিল্পে প্রবেশের সম্ভাবনা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করছে এবং স্টার্টআপদের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করছে ভবিষ্যতের মহাকাশ মিশনের জন্য।
চাঁদের পথে ‘লুনার রোভার’ সাফল্য
LG বৈঠকে একটি কেস স্টাডি তুলে ধরে যেখানে Unmanned Exploration Laboratory-এর সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি একটি লুনার রোভার সফলভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে। এই সাফল্য প্রমাণ করে যে LG মহাকাশ প্রযুক্তিতেও দাপট দেখাতে প্রস্তুত। চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো 2032 সালের মধ্যে চাঁদে সফল ল্যান্ডিং।
LG Energy Solution এর ইতিমধ্যেই মহাকাশে পদচারণা
এখানে উল্লেখযোগ্য, LG Energy Solution Ltd. ইতিমধ্যেই মহাকাশে নিজের জায়গা তৈরি করেছে। NASA ২০১৬ সালে তাদের Lithium-ion Battery ব্যবহার করেছিল Astronaut Space Suit-এর জন্য, যা মহাকাশে বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য শক্তি জুগিয়েছিল। এটি ছিল LG-এর প্রযুক্তিগত সক্ষমতার এক ঐতিহাসিক সাফল্য।
KASA-র পরিকল্পনা, পুনঃব্যবহারযোগ্য রকেট
KASA জানিয়েছে, তারা ২০৩৫ সালের মধ্যে একাধিকবার ব্যবহারযোগ্য Space Launch Vehicle তৈরি করতে চলেছে। এই প্রকল্পে তারা 2.1 ট্রিলিয়ন Won (প্রায় 1.53 বিলিয়ন USD) বিনিয়োগ করছে। তাদের মতে, SpaceX-এর Falcon 9 এবং Starship মহাকাশ বাজারে বিপ্লব এনেছে। তাই দক্ষিণ কোরিয়াও আর পিছিয়ে থাকতে চায় না।
কেন এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ?
এই উদ্যোগ কেবল LG বা দক্ষিণ কোরিয়ার জন্যই নয়, বরং গোটা বিশ্বের Space Race-এর দিক থেকে একটা বড় বার্তা দেয়। একদিকে যেমন সরকারি গবেষণা সংস্থার পরিধি বাড়ছে, অন্যদিকে LG-এর মতো প্রাইভেট জায়ান্ট সংস্থা গুলো এই সেক্টরে আসা মানে গবেষণার গতি বহুগুণে বেড়ে যাবে।
LG আমাদের চেনা-জানা ইলেকট্রনিক সংস্থা হলেও এবার তারা গড়তে চলেছে নতুন পরিচয়—Space Tech Visionary! চাঁদের বুকে পতাকা গাড়ার স্বপ্ন যে তারা দেখছে, সেটা আর কল্পনা নয়—এবার সেটাই বাস্তবের পথে হাঁটছে। এখন প্রশ্ন একটাই, LG কি সত্যিই চাঁদে পৌঁছতে পারবে?