দিল্লি থেকে মুম্বাই পৌঁছে যাবেন মাত্র 90 মিনিটে! হ্যাঁ, এই স্বপ্নকে সত্যি করবে ভারতের হাইপারলুপ

Feature T&L

কল্পনা করুন, দিল্লি থেকে মুম্বাই যেতে মাত্র 90 মিনিট! বা লন্ডন থেকে প্যারিস পৌঁছে যাওয়া 30 মিনিটে! শুনতে অবাক লাগলেও, ভারত এই স্বপ্নকে সত্যি করতে চলেছে তার হাইপারলুপ প্রকল্পের মাধ্যমে। একটি 422 মিটার টেস্ট ট্র্যাক ইতিমধ্যেই তৈরি হয়ে গেছে, আর এখন পরিকল্পনা চলছে প্রায় 50 কিলোমিটারের একটি বড় ট্র্যাকের। ভারত এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তির দৌড়ে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে এই হাইপারলুপ আসলে কী? আর এটা কীভাবে আমাদের ভ্রমণের ধরন বদলে দেবে? চলুন, জেনে নিই।

হাইপারলুপ কী?

হাইপারলুপকে বলা হচ্ছে ভ্রমণের “পঞ্চম উপায়”। এটি এমন একটি ট্রেন, যা আমাদের চেনা ট্রেন বা প্লেনের থেকে একদম আলাদা। ভাবুন, একটি ছোট ক্যাপসুলের মতো গাড়ি, যার ভেতরে যাত্রীরা বসে আছে। এটি চলবে ভ্যাকুয়াম টিউবের মধ্যে, চুম্বকের শক্তিতে ভেসে থেকে। ঘর্ষণ আর বাতাসের বাধা না থাকায় এটি ঘণ্টায় 1,100 কিলোমিটার গতিতে ছুটতে পারে। অর্থাৎ, এত দ্রুত যে দূরের শহরগুলো কাছে চলে আসবে!

কী কী সুবিধা পাওয়া যাবে?

হাইপারলুপ আমাদের জীবনে অনেক কিছু বদলে দিতে পারে। যেমন:

  • দারুণ গতি: অনেক দ্রুত ভ্রমণ।
  • কম বিদ্যুৎ খরচ: পরিবেশের জন্য ভালো।
  • আবহাওয়ার ঝামেলা নেই: বৃষ্টি-তুষারে কোনও দেরি হবে না।
  • নিরাপদ: দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেক কম। একটি ক্যাপসুলে 12 জনের বেশি যাত্রী সরাসরি গন্তব্যে পৌঁছে যাবে, মাঝে কোথাও থামতে হবে না। ফলে সময় বাঁচবে অনেক।

দূরত্বকে কম করে দেবে হাইপারলুপ

এই ট্রেন ভ্রমণের সময়কে যেন জাদুমন্ত্রে বদলে দেবে। যেমন:

  • দিল্লি থেকে মুম্বাই: এখন ট্রেনে 15 ঘণ্টার বেশি লাগে, হাইপারলুপে মাত্র 90 মিনিট!
  • দিল্লি থেকে জয়পুর: দূরত্ব আরও কমে যাবে। মাত্র 30 মিনিটে পৌঁছে যাওয়া যাবে।
  • লন্ডন থেকে প্যারিস: মাত্র 30 মিনিটে পৌঁছে যাওয়া সম্ভব। এটি শহরগুলোকে এত কাছে নিয়ে আসবে যে কাজ, পড়াশোনা বা ভ্রমণ—সবকিছুই সহজ হয়ে যাবে।

হাইপারলোপের স্বপ্ন: পুরোনো কিন্তু নতুন

হাইপারলোপের ধারণাটা একদম নতুন নয়। 1799 সালে জর্জ মেডহার্স্ট প্রথম বলেছিলেন, টিউবে বাতাসের চাপে জিনিসপত্র পাঠানো যায়। 1970-এর দশকে সুইস প্রফেসর মার্সেল জুফের এটি নিয়ে আরও ভেবেছিলেন। কিন্তু 2013 সালে ইলন মাস্ক (Elon Mask) এই স্বপ্নকে নতুন করে জাগিয়ে তুললেন। এখন ভারত সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে এগিয়ে চলেছে।

ভারতের হাইপারলুপ প্রকল্প

ভারত সরকার এই প্রকল্পে পুরোদমে জড়িয়ে পড়েছে। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, আইআইটি মাদ্রাসের (IIT Madras) সঙ্গে মিলে এটি তৈরি হচ্ছে। রেল মন্ত্রণালয় এর জন্য টাকা দিচ্ছে, আর মন্ত্রী আরও 10 লাখ ডলারের অনুদানের কথা ঘোষণা করেছেন। 2024-এর ডিসেম্বরে একটি 422 মিটার টেস্ট ট্র্যাক তৈরি হয়েছে। এখন পরিকল্পনা চলছে 50 কিলোমিটারের একটি বড় ট্র্যাকের, যা দেখবে এই প্রযুক্তি ব্যবসায়িকভাবে কতটা কাজের।

বিশ্বের সঙ্গে হাত মিলিয়ে চলছে কাজ

ভারত একা নয়, অনেক দেশের সঙ্গে মিলে এই প্রকল্প এগোচ্ছে। আইআইটি মাদ্রাসে তৈরি ‘টুডা সুইস আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ টর হাইপারলুপ‘ সুইস ও ভারত সরকারের সমর্থন পেয়েছে। এছাড়া নেদারল্যান্ডস, চিন, কানাডা ও আমেরিকাও হাইপারলুপ নিয়ে কাজ করছে। তবে ভারত এই দৌড়ে এগিয়ে থাকতে চায়।

হাইপারলুপ শুধু একটি ট্রেন নয়, এটি ভ্রমণের ভবিষ্যৎ। সরকার, বিশেষজ্ঞ আর বিশ্বের সঙ্গে মিলে ভারত এই প্রযুক্তিকে নিয়ে আসছে আমাদের দরজায়। পরিবেশের কথা ভেবে, দ্রুত আর নিরাপদ ভ্রমণের জন্য এটি হতে পারে বড় উত্তর। হাইপারলুপ কি সত্যিই আমাদের জীবন বদলে দেবে? সময়ই বলবে, তবে এই যাত্রা শুরু হয়ে গেছে—আর ভারত এতে নেতৃত্ব দিচ্ছে!

এই মুহূর্তে

আগস্ট ২০২৬-এ আসছে Google Pixel 11, Vivo S2 সহ ৫টি সেরা smartphones launching in August 2026: সম্পূর্ণ তালিকা!

Hugging Face প্ল্যাটফর্মে ভয়ঙ্কর AI Deepfake-এর রমরমা: নারী ও শিশুদের টার্গেট করে তৈরি হচ্ছে অশালীন ছবি

ভারতীয় বিমান বাহিনী চালু করলো ‘সংকল্প-২০২৬’: রুশ যুদ্ধবিমানের দেশীয়করণে নতুন দিগন্ত

মহাকাশে আত্মনির্ভর ভারত: নভোচারী প্রযুক্তির দেশীয় উন্নয়নে জোরালো পদক্ষেপ