ভারতীয় রেলওয়ে পরিবহণে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে চলেছে। এ বছর ডিসেম্বর থেকে দেশের প্রথম জলচালিত ট্রেন চালু হবে। এই হাইড্রোজেন-চালিত ট্রেন চলবে না ডিজেল বা বিদ্যুৎ দিয়ে, বরং চলবে জল ও হাইড্রোজেনের শক্তি দিয়ে। এটি পরিবেশবান্ধব এবং টেকসই যাতায়াত ব্যবস্থার এক যুগান্তকারী আবিস্কার।
কীভাবে কাজ করবে এই ট্রেন?
এই ট্রেন শক্তি উৎপন্ন করবে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের মিশ্রণকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করে। এই প্রক্রিয়ায় জ্বালানি কোষের মাধ্যমে শক্তি তৈরি হবে, আর এর একমাত্র উপজাত হল জলীয় বাষ্প ও জল। পরিবেশে কোনও দূষণ হবে না। তবে এই ট্রেন প্রতি ঘণ্টায় প্রায় 40,000 লিটার জল খরচ করবে, যার জন্য বিশেষ জল সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।
প্রথম পর্যায়ে কোথায় চলবে?
2024 সালের ডিসেম্বর মাসে জিন্দ-সোনিপত রুটে (90 কিলোমিটার) প্রথম এই ট্রেন চালু হবে। এছাড়া, ভবিষ্যতে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে, কালকা-শিমলা রেলওয়ে, এবং নিলগিরি মাউন্টেন রেলওয়ে-এর মতো সুন্দর রুটে এই ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
ভারতীয় রেলওয়ে প্রথম পর্যায়ে 35 টি হাইড্রোজেন ট্রেন তৈরি করার লক্ষ্য নিয়েছে। এই ট্রেনগুলোর প্রত্যেকটির জন্য প্রায় ₹80 কোটি খরচ হবে। হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল, প্ল্যান্ট এবং পরিকাঠামো তৈরির কাজ চলছে পুরোদমে।
বিশেষত্ব
- পরিবেশবান্ধব: জ্বালানি থেকে শুধু জল এবং বাষ্প নির্গত হয়।
- শব্দ দূষন নিয়ন্ত্রন: ডিজেল ট্রেনের তুলনায় 60% কম শব্দ।
- দ্রুতগামী: সর্বোচ্চ 140 কিমি/ঘণ্টা গতি এবং একটানা 1,000 কিমি চলার ক্ষমতা।
- যাত্রী ধারণক্ষমতা: যা খবর পাওয়া গেছে তাতে বর্তমান ট্রেনগুলির সমান হবে।
ভারতের পরিবহন ব্যবস্থায় এই হাইড্রোজেন ট্রেন এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। পরিবেশ রক্ষা এবং জ্বালানি সাশ্রয়ে এটি শুধু দেশেই নয়, বিশ্বেও উদাহরণ সৃষ্টি করবে।