টেক ডেস্কঃ ভারত সরকার মেটাকে (Meta) কড়া বার্তা দিয়ে জানিয়েছে যে, তাদের প্ল্যাটফর্মগুলিকে কেবল বিশ্বব্যাপী নীতি নয়, `Meta India Law` ও ভারতের নিজস্ব আইন-কানুন মেনে চলতে হবে। সরকারি সূত্র মারফত জানা গেছে, সম্প্রতি মেটার সঙ্গে যে আলোচনা হয়েছে, তার মূল উদ্দেশ্য ছিল তাদের বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতিগুলিকে দেশের আইনি কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা, তাদের অ্যালগরিদম পুরোপুরি বদলানোর নির্দেশ দেওয়া হয়নি। এই কঠোর অবস্থান ভারতের ডিজিটাল সার্বভৌমত্বের প্রতি অঙ্গীকারের প্রমাণ।
আধিকারিকরা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগ তুলে ধরেছেন, যার মধ্যে রয়েছে চাইল্ড সেক্সুয়াল অ্যাবিউজ মেটেরিয়াল (CSAM) বা শিশুদের উপর যৌন নির্যাতনের বিষয়বস্তুর বিস্তার, ডিপফেকের (deepfake) ক্রমবর্ধমান ব্যবহার এবং বিষয়বস্তু বোঝার ক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক ফাঁক। সরকার মেটাকে আরও শক্তিশালী সুরক্ষা ব্যবস্থা, উন্নত মানব পর্যালোচনা পদ্ধতি এবং ক্ষতিকারক বিষয়বস্তুর বিরুদ্ধে দ্রুত ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। ভারতের বৈচিত্র্যপূর্ণ সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট ভালোভাবে বোঝার জন্য স্থানীয় দক্ষতা ও প্রয়োগের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
এই আলোচনা ইঙ্গিত দেয় যে, মেটাকে ভারতীয় প্রেক্ষাপট আরও সূক্ষ্মভাবে বুঝতে হবে এবং ‘এক নীতি সকলের জন্য’ এই বিশ্বব্যাপী ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এর জন্য শুধু নীতি পরিবর্তন নয়, বরং মাঠ পর্যায়ে শক্তিশালী প্রয়োগও প্রয়োজন, যাতে প্ল্যাটফর্মের নীতিগুলি ভারতীয় সমাজের রীতিনীতি এবং আইনি বাধ্যবাধকতাকে প্রকৃত অর্থেই প্রতিফলিত ও সম্মান করে। সরকার এই জরুরি বিষয়গুলিতে মেটার থেকে বাস্তবসম্মত উন্নতির আশা করছে।