আপনার মতই চিন্তা করবে, আপনার মতোই প্রতিক্রিয়া দেবে—এমন এক ডিজিটাল “আপনি” তৈরির প্রযুক্তি আনল Google DeepMind। নতুন এই প্রযুক্তি “পার্সোনালিটি এজেন্টস” মানুষের ব্যক্তিত্ব এবং চিন্তাধারা নকল করতে পারে।
কি করে কাজ করে এই প্রযুক্তি?
একটি ইন্টারভিউ চলাকালীন, AI আপনার জীবন, মতামত এবং সিদ্ধান্ত সম্পর্কে প্রশ্ন করে। আপনার উত্তর বিশ্লেষণ করে AI তৈরি করে একটি ডিজিটাল মডেল, যা 85% নির্ভুলতার সাথে আপনার মতো আচরণ করতে পারে।
গবেষকরা বলছেন, এই প্রযুক্তি সমাজতত্ত্ব গবেষণায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে। ঐতিহ্যবাহী সমাজতাত্ত্বিক গবেষণায় হাজার হাজার মানুষের উপর সার্ভে করতে হয়, যা সময়সাপেক্ষ এবং ব্যয়বহুল। কিন্তু পার্সোনালিটি এজেন্টস দিয়ে একাধিক পরিস্থিতিতে মানুষের প্রতিক্রিয়া সহজেই বিশ্লেষণ করা সম্ভব।
প্রয়োগের সম্ভাবনা
এমন AI অ্যাসিস্ট্যান্ট কল্পনা করুন, যা আপনার পছন্দ এতটাই ভালোভাবে বোঝে যে, আপনি না বললেও আপনার প্রয়োজনীয় জিনিসটি ঠিক করে দিতে পারে। এই প্রযুক্তি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত অ্যাসিস্ট্যান্টকেই উন্নত করবে না, বরং রোবটের সাথে মানুষের সম্পর্ক আরও মানবিক করে তুলতে পারে।
গবেষক দল জানিয়েছেন, “এই প্রযুক্তি শুধু উৎপাদনশীলতাই বাড়াবে না, বরং AI এবং মানুষের মধ্যে আবেগের সংযোগও স্থাপন করবে।”
চ্যালেঞ্জ এবং সতর্কতা
তবে এই প্রযুক্তি নিয়ে যথেষ্ট উদ্বেগও রয়েছে। কারো অনুমতি ছাড়া তাদের ডিজিটাল মডেল তৈরি করলে কী হবে? অথবা এই প্রযুক্তি যদি রাজনৈতিক প্রচার বা বিজ্ঞাপনের মতো কাজে অপব্যবহার হয়?
মানুষের ডিজিটাল প্রতিরূপকে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে অন্যদের সাথে ব্যবহার করার ভাবনাই অনেকের কাছে অস্বস্তিকর। “এটা মানসিক ক্ষতি বা অপব্যবহারের সম্ভাবনা বাড়াতে পারে,” সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রযুক্তির এই চমক কি মানবজীবনের নতুন দিগন্ত খুলে দেবে, নাকি নিয়ে আসবে নতুন জটিলতা? সময়ই দেবে উত্তর।