ইলন মাস্ক পরিচালিত স্পেসএক্স (SpaceX) আবারও বিতর্কের কেন্দ্রে। এবার সংস্থাটির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন প্রাক্তন নিরাপত্তা ম্যানেজার জেনা শামওয়ে, যেখানে তিনি যৌন হয়রানি, লিঙ্গ বৈষম্য ও প্রতিশোধমূলক আচরণের অভিযোগ এনেছেন সংস্থার এক সিনিয়র অফিসার ড্যানিয়েল কলিন্স এবং স্পেসএক্স কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।
স্পেসএক্স-এ জেনা শামওয়ে’র অভিজ্ঞতা
২০২২ সালে, জেনা শামওয়ে স্পেসএক্স-এ যোগ দেন এবং খুব অল্প সময়েই পদোন্নতি পেয়ে Senior Contractor Program Security Officer-এর দায়িত্ব পান। সংস্থার নিরাপত্তা বিভাগে তার অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। কিন্তু সমস্যা শুরু হয় যখন ড্যানিয়েল কলিন্স, যিনি আগে US Defence Department-এ কাজ করতেন, তাকে সরাসরি একটি উচ্চপদে নিয়োগ দেওয়া হয়, যেখানে শামওয়ে আবেদন করতেই পারেননি।
কলিন্স’র বিরুদ্ধে অভিযোগ কী?
জেনার দাবি, কলিন্স দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তার কর্মজীবন নষ্ট হতে শুরু করে। একের পর এক দায়িত্ব ছেঁটে তাকে কোণঠাসা করে দেওয়া হয়। এমনকি অফিসিয়াল নিয়ম ভেঙে কলিন্স সরকারি নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘন করেন, যা গোপন রাখার চেষ্টা হয়।
শুধু তাই নয়, অভিযোগ অনুযায়ী, কলিন্স মহিলা সহকর্মীদের প্রতি কুরুচিকর মন্তব্য করতেন, এক মিটিংয়ে এক মহিলা সহকর্মীর দিকে অশালীনভাবে তাকিয়েছিলেন এবং এমনকি এক মহিলাকে “after-work fun”-এর অফার দেন — যা ছিল একেবারেই অনৈতিক ও অপেশাদার।
স্পেসএক্স কী পদক্ষেপ নিয়েছে?
শামওয়ে ও অন্য মহিলা কর্মীরা একাধিকবার HR-কে অভিযোগ জানান। কিন্তু সংস্থার পদক্ষেপ ছিল হতাশাজনক। কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে বরং বলা হয় যেন তারা কলিন্স-এর সঙ্গে একা না থাকেন। এই আচরণকে কর্মীরা অবমাননাকর বলেই ব্যাখ্যা করেছেন।
আগেও বিতর্কে কলিন্স ও স্পেসএক্স
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে, The New York Times-এ একটি রিপোর্টে স্পেসএক্স-এর দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা সামনে আসে। কলিন্স অযোগ্য কর্মীদের গোপন মিটিংয়ে ঢুকতে দিয়েছিলেন এবং অন্যদের তা গোপন রাখতে বলেন।
এছাড়াও, স্পেসএক্স আগেও মহিলা কর্মীদের বৈষম্যের কারণে একাধিক মামলার সম্মুখীন হয়েছে। অভিযোগ, সংস্থাটি লিঙ্গবৈষম্য সংক্রান্ত বিষয়ে দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ করেছে।
জেনা শামওয়ে-র মামলাটি স্পেসএক্স-এর কর্মসংস্কৃতি ও নারী নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল। এখন গোটা বিশ্বের নজর থাকবে ইলন মাস্ক ও তাঁর সংস্থা কীভাবে এই অভিযোগের জবাব দেন। এই মামলা কি ভবিষ্যতে কর্মক্ষেত্রে নারীদের অধিকারের লড়াইয়ে দিশা দেখাবে? সময়ই তা বলবে।