বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তির জগতে নতুন এক ইতিহাস রচনা করলেন ইলন মাস্ক-এর সংস্থা Neuralink। দীর্ঘ ২০ বছর পর শুধুমাত্র চিন্তা-ভাবনার মাধ্যমে নিজের নাম লিখতে সক্ষম হলেন পক্ষাঘাতগ্রস্ত এক মহিলা অড্রি ক্রুস। এই অসম্ভবকে সম্ভব করেছে একটি ছোট্ট brain chip, যা বসানো হয়েছে অড্রির মস্তিষ্কে।
অড্রি, যিনি মাত্র ১৬ বছর বয়সেই পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হন, বর্তমানে Neuralink-এর চলমান ব্রেন–কম্পিউটার ইন্টারফেস (BCI) ট্রায়াল-এ অংশ নিচ্ছেন। সম্প্রতি তিনি X -এ আবেগঘন একটি পোস্ট করেন, যেখানে তিনি লেখেন:
“২০ বছর পর নিজের নাম লেখার চেষ্টা করলাম। এখনও শিখছি। Lol #Neuralink”
সেই পোস্টে তিনি একটি ছবিও শেয়ার করেন, যেখানে স্পষ্টভাবে দেখা যায় “Audrey” লেখা হয়েছে বেগুনি রঙে, একটি ল্যাপটপ স্ক্রিনে। মুহূর্তের মধ্যেই পোস্টটি ভাইরাল হয়ে যায়। মিলেছে ২ মিলিয়নেরও বেশি ভিউ এবং ইলন মাস্ক নিজেও রিপ্লাই দিয়ে লেখেন –
“সে শুধুমাত্র ভাবনার মাধ্যমে কম্পিউটার নিয়ন্ত্রণ করছে। বেশিরভাগ মানুষ জানেই না, এটা সম্ভব!”
Neuralink-এর PRIME Study-তে “P9” কোডনামে পরিচিত অড্রির মস্তিস্কে মাত্র এক সপ্তাহ আগেই এই চিপ ইমপ্ল্যান্ট করা হয়েছে। তিনি জানান,
“আমার মাথার খুলিতে একটি ছোট গর্ত করে ১২৮টি সূক্ষ্ম থ্রেড বসানো হয়েছে motor cortex–এ। Neuralink-এর এই চিপটির আকার একটি কয়েনের মতো। চিপটি মস্তিষ্ক থেকে সংকেত পড়ে তা কার্সর মুভমেন্টে রূপান্তর করে।”
অপেক্ষাকৃত জটিল হলেও, সার্জারির পর সুস্থতা দ্রুত ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন অড্রি। যদিও এই চিপ শরীরের চলাচল ফিরিয়ে দিতে পারে না, তবে এটি ব্যবহারকারীকে ডিজিটাল যন্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও যোগাযোগে সক্ষম করে তোলে।
Neuralink কী?
২০১৬ সালে ইলন মাস্ক প্রতিষ্ঠিত Neuralink হল এমন একটি প্রযুক্তি সংস্থা, যার লক্ষ্য মানব মস্তিষ্ক ও কম্পিউটারের সরাসরি সংযোগ তৈরি করা। এই প্রযুক্তির সাহায্যে পক্ষাঘাতগ্রস্ত বা স্নায়বিক সমস্যায় ভোগা মানুষরা ডিজিটাল স্বাধীনতা ফিরে পেতে পারেন। ভবিষ্যতে এটি কৃত্রিম অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নিয়ন্ত্রণ বা কথা না বলেই জন সংযোগ করার পথ খুলে দিতে পারে।
এই উদ্ভাবন শুধুই প্রযুক্তির নয়, এটি মানব ইতিহাসের অন্যতম বড় স্নায়ু-বিজ্ঞানগত সাফল্য বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। Neuralink-এর এই সাহসী পদক্ষেপ আগামী দিনে আরও অনেক পক্ষাঘাতগ্রস্ত মানুষের জীবনে আশার আলো জ্বালাবে।