টেক ডেস্কঃ সোশ্যাল মিডিয়ায় টাকা আয় করা সহজ মনে হলেও বাস্তবে ততটা সহজ নয়। ইউটিউবে বা ইনস্টাগ্রামে ভালো কমায়ের জন্য অনেক সাবস্ক্রাইবার, ফলোয়ার আর ভিউ লাগে। কিন্তু এখন এক নতুন অ্যাপ এসেছে, যেখানে কম কিন্তু বিশ্বস্ত ফ্যান থাকলেও ক্রিয়েটররা সরাসরি আয় করতে পারবেন।
লাইভ স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম কিক (Kick) সম্প্রতি ক্লাব (Club) নামে নতুন একটি অ্যাপ লঞ্চ করেছে। ১৯ আগস্ট ২০২৬-এ মোবাইল অ্যাপের অফিসিয়াল লঞ্চ হয়। কোম্পানির দাবি, প্রাথমিক টেস্টিংয়ে দুই মাসেরও কম সময়ে এক লাখ সদস্য যোগ দিয়েছেন। অ্যাকাউন্ট খোলা ক্রিয়েটরদের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ অ্যাকটিভ ছিলেন এবং একটি কমিউনিটিতে ৩০ হাজারের বেশি সদস্য পৌঁছে গেছে।
কীভাবে আয় হবে ক্লাবে?
ক্লাবের মডেলটা বেশ সহজ। কনটেন্ট ক্রিয়েটররা তাদের ফ্যানদের কাছ থেকে মাসিক মেম্বারশিপ নিয়ে টাকা নিতে পারবেন। কিছু বিশেষ পোস্ট বা কনটেন্ট পেইড করে খোলা যাবে। ফ্যানরা টিপ দিতে পারবেন, এমনকি সরাসরি কথা বলা বা বিশেষ কানেকশনের জন্যও পেমেন্ট করা যাবে।
এখানে মূল ফোকাস অনেক ফলোয়ারের ওপর নয়। কোম্পানি চায় ছোট কিন্তু শক্তিশালী ফ্যান গ্রুপ তৈরি হোক—যারা ক্রিয়েটরের কাজ পছন্দ করেন এবং তার জন্য টাকা খরচ করতেও রাজি। ক্লাবের সিইও হেনরিক পোলম্যান এটাকে আরও ‘হিউম্যান’ সোশ্যাল মিডিয়া এক্সপেরিয়েন্স বলে দাবি করেছেন।
ইউটিউবের সঙ্গে তফাত কী?
ইউটিউব এখনও বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্ল্যাটফর্মগুলোর একটা। সেখানে অ্যাড ছাড়াও চ্যানেল মেম্বারশিপ, সুপার চ্যাট, সুপার থ্যাঙ্কস, শপিং আর প্রিমিয়াম থেকে আয় হয়। কিন্তু প্ল্যাটফর্ম থেকে সরাসরি আয় শুরু করতে কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়—সাধারণত অ্যাডস মোনেটাইজেশনের জন্য এক হাজার সাবস্ক্রাইবার আর নির্দিষ্ট ভিউয়িং টাইম বা শর্টস ভিউ লাগে।
ধরুন একজন ক্রিয়েটরের মাত্র পাঁচ হাজার খুব লয়্যাল ফলোয়ার আছে। তার ভিডিওতে লাখ লাখ ভিউ না এলেও যদি সেই পাঁচ হাজারের মধ্যে ৫০০ জন মাসে তার বিশেষ কনটেন্টের জন্য টাকা দিতে রাজি হন, তাহলে সরাসরি ফ্যানদের কাছ থেকে আয়ের মডেল তার জন্য অনেক ভালো কাজ করতে পারে। সহজ কথায়—ইউটিউবের খেলা বেশি দর্শক আর ভিউয়ের, ক্লাবের দাঁড়ি হলো কম কিন্তু টাকা খরচ করতে রাজি বিশ্বস্ত ফ্যানদের ওপর।
ক্রিয়েটর কত শতাংশ পাবেন?
ইউটিউব ফ্যান-ফান্ডিং থেকে প্রায় ৭০ শতাংশ আর অ্যাডস থেকে ৫৫ শতাংশ ক্রিয়েটরকে দেয়। অন্যদিকে ক্লাব ক্রিয়েটরের আয়ের ২০ শতাংশ নিতে পারে। সরাসরি ফ্যানদের কাছ থেকে আয়ের মডেল আকর্ষণীয় মনে হলেও প্ল্যাটফর্মের শেয়ারও কম নয়।
ভারতে কিক অ্যাপ আগে থেকেই আছে। ক্লাবের এন্ট্রি শিগগির হতে পারে। যারা ইনস্টাগ্রাম বা ইউটিউব থেকে খুব বেশি আয় করতে পারছেন না, বিশেষ করে গেমাররা, তারা এই প্ল্যাটফর্মে লাইভ স্ট্রিমিং করে নতুন সুযোগ খুঁজতে পারেন।
ক্লাব সত্যিই ক্রিয়েটরদের জন্য নতুন পথ খুলবে কিনা, সেটা আগামী কয়েক মাসেই স্পষ্ট হবে। বড় প্রশ্ন শুধু ক্রিয়েটররা আসবেন কিনা নয়—তাদের ফ্যানরাও নতুন প্ল্যাটফর্মে গিয়ে মাসে মাসে টাকা দিতে রাজি হবেন কিনা।