ডিজিটাল দুনিয়া এখন এতটাই প্রভাব বিস্তার করেছে যে সদ্যোজাত সন্তানের নামও রাখা হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স-এর নামে! সম্প্রতি কলম্বিয়ার সেরেতে শহরে এমন এক বিরল ঘটনা ঘটল, যেখানে এক শিশুর নামকরণ করা হয়েছে এআই মডেল চ্যাট জিপিটি (ChatGPT)-র নামে। ওই নবজাতকের নাম রাখা হয়েছে চ্যাট ইয়িপিটি বাস্তিদাস গুয়েরা। এই ঘটনা নিয়ে গোটা বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা।
গত ১৫ই আগস্ট, স্থানীয় ন্যাশনাল রেজিস্ট্রিতে শিশুটির নামকরণ সম্পূর্ণ হয়। মজার বিষয় হলো, নাম নথিভুক্ত করার সময় কর্তৃপক্ষ এই নামকরণ নিয়ে কোনও আপত্তি জানায়নি। এই ব্যতিক্রমী নামকরণের পেছনের কারণ হিসেবে শিশুটির বাবা-মা জানিয়েছেন, এটি ডিজিটাল যুগ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রতি তাঁদের একধরনের শ্রদ্ধার্ঘ্য। তাঁদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন দৈনন্দিন জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে, তাই এই নাম রাখা হয়েছে।
কিন্তু এই নাম পছন্দ নিয়ে অনলাইন দুনিয়া দ্বিধাবিভক্ত। একদল মানুষ এই সিদ্ধান্তকে সাদরে গ্রহণ করেছেন। তাঁদের মতে, এটি সৃজনশীলতা এবং আধুনিকতার প্রতীক। আবার অন্য একটি দল এর তীব্র সমালোচনা করছেন। তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, ভবিষ্যতে এই অস্বাভাবিক নামের জন্য শিশুটিকে হয়তো অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হতে পারে।
কলম্বিয়ায় এমন ব্যতিক্রমী নাম রাখার ঘটনা নতুন নয়। অতীতেও সেখানে ক্রীড়াবিদ, সিনেমার চরিত্র বা সঙ্গীতশিল্পীদের নাম অনুসারে শিশুদের নামকরণ করা হয়েছে। যেমন, কেউ কেউ নিজেদের সন্তানের নাম রেখেছেন মাইকোল ইয়োর্দান (মাইকেল জর্ডান) বা ব্রায়ান স্পিয়ার্স (ব্রিটনি স্পিয়ার্স)। তবে, কর্তৃপক্ষ অপ্রীতিকর নাম প্রত্যাখ্যানও করেছে। যেমন, ‘আমার কুকুর’ (মিপেরো) বা ‘শয়তান’ (সাতানাস) নামকরণের চেষ্টা বাতিল করা হয়েছিল।
কলম্বিয়ার আইন অনুযায়ী, নিষিদ্ধ নামের কোনও নির্দিষ্ট তালিকা নেই। যদি কোনও নাম শিশুর মর্যাদা বা খ্যাতির পক্ষে ক্ষতিকর বলে মনে হয়, তাহলে ন্যাশনাল সিভিল রেজিস্ট্রির কর্মকর্তারা সেই নাম বাতিল করতে পারেন। তবুও চ্যাট ইয়িপিটি নামটি গ্রহণ হয়েছে, নাম সংক্রান্ত নিয়ম-কানুন আধুনিক যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পরিবর্তন হওয়া উচিত কিনা, সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।
শুধু কলম্বিয়াই নয়, সমগ্র লাতিন আমেরিকাতেই সেলিব্রিটি, সোপ অপেরার চরিত্র বা প্রযুক্তি দ্বারা অনুপ্রাণিত ব্যতিক্রমী নাম রাখার চল আছে। অতীতে, শিশুদের নাম রাখা হয়েছিল মোজার্ট, ফেসবুক এবং স্টালোন। স্প্যানিশ উচ্চারণের কারণে এই নামগুলো অনেক সময় ভিন্ন রূপ নেয়। যেমন, জেসন থেকে হয়ে যায় ইয়েসন।
চ্যাট ইয়িপিটি-র নামকরণ বাবা-মায়ের নাম নির্বাচনের স্বাধীনতা এবং প্রযুক্তির কারণে সংস্কৃতিতে আসা পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যখন সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলছে, তখন মনে হচ্ছে ব্যক্তিগত জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোও ডিজিটাল যুগে প্রবেশ করছে।