ভারতের স্মার্টফোন বাজারে ২০২৫ সালের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি-মার্চ) বড় ধরনের উত্থান-পতন দেখা গেছে। ক্যানালিস নামে একটি গবেষণা সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, এই সময়ে স্মার্টফোনের চালান (শিপমেন্ট) গত বছরের তুলনায় ৮% কমেছে। মোট ৩ কোটি ২৪ লক্ষ ইউনিট ফোন বাজারে পাঠানো হয়েছে। তবে এর মধ্যেও কিছু ব্র্যান্ড দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছে।
Vivo-র দুর্দান্ত উত্থান
চিনের জনপ্রিয় স্মার্টফোন ব্র্যান্ড Vivo এবার বাজারে শীর্ষস্থান দখল করেছে। রিপোর্ট বলছে, Vivo মোট ৭০ লক্ষ ইউনিট ফোন শিপমেন্ট করেছে, যা বাজারের ২২%। গত বছরের তুলনায় তাদের শিপমেন্ট ১৩% বেড়েছে। Vivoর সাফল্যের পিছনে রয়েছে তাদের নতুন মডেল এবং আকর্ষণীয় ফিচার, যা ভারতীয় ক্রেতাদের মন জয় করেছে।
Samsung পেল দ্বিতীয় স্থান
দক্ষিণ কোরিয়ার স্মার্টফোন জায়ান্ট Samsung এবার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। তবে তাদের শিপমেন্টে বড় ধাক্কা লেগেছে। গত বছরের তুলনায় Samsung-এর ফোন শিপমেন্ট ২৩% কমেছে। তবুও তারা বাজারের একটি বড় অংশ ধরে রেখেছে। সম্প্রতি লঞ্চ হওয়া Galaxy M56 5G মডেলটি ক্রেতাদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় হয়েছে, যা Samsungকে এই স্থান ধরে রাখতে সাহায্য করেছে।
Xiaomi-র নিম্নমুখী গ্রাফ
একসময় ভারতের স্মার্টফোন বাজারের রাজা Xiaomi এবার তৃতীয় স্থানে নেমে গেছে। তাদের শিপমেন্টে বিশাল পতন হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ৩৮% কম। তবে Xiaomi এখনও তাদের নতুন মডেল, যেমন Xiaomi 16 নিয়ে বাজারে ফিরে আসার চেষ্টা করছে।
অন্যান্য ব্র্যান্ডের অবস্থা
Oppo এবং Realme এই তিন মাসে ভালো ফল করেছে। Oppo তাদের F29 সিরিজের জনপ্রিয়তার কারণে বাজারে জায়গা ধরে রেখেছে। Realme-ও তাদের GT8 Pro মডেলের মাধ্যমে কম বয়সী ক্রেতাদের আকর্ষণ করছে। এদিকে, Apple ভারতে তাদের সর্বোচ্চ প্রথম-তিন মাসে বিক্রির রেকর্ড করেছে। iPhone 16E-এর লঞ্চ এবং ভারত ও জাপানের মতো দেশে ব্যাপক চাহিদা Apple-এর এই সাফল্যের কারণ।
কেন কমলো শিপমেন্ট?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজারে নতুন ফোনের চাহিদা কিছুটা কমেছে কারণ অনেকেই এখন তাদের পুরোনো ফোন বেশিদিন ব্যবহার করছেন। এছাড়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ট্যারিফ নীতির কারণে স্মার্টফোনের দাম বাড়তে পারে, যা বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। তবে ভারত এখনও স্মার্টফোন রপ্তানির ক্ষেত্রে শক্তিশালী জায়গায় রয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারত থেকে ২ লক্ষ কোটি টাকার বেশি দামের স্মার্টফোন রপ্তানি হয়েছে, যার মধ্যে iPhone-এর অবদান প্রায় ১.৫ লক্ষ কোটি টাকা।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের স্মার্টফোন বাজারে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হবে। Vivo, Samsung, Xiaomiর মতো ব্র্যান্ডগুলো নতুন নতুন ফিচার এবং সাশ্রয়ী মূল্যের ফোন নিয়ে ক্রেতাদের মন জয় করার চেষ্টা করবে। এছাড়া, ভারত সরকারের প্রোডাকশন লিঙ্কড ইনসেনটিভ (PLI) স্কিমের কারণে Apple, Samsung-এর মতো বড় সংস্থা ভারতে তাদের উৎপাদন বাড়াচ্ছে। এটি ভারতের অর্থনীতির জন্যও ভালো খবর।