টেক ডেস্কঃ ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO) তাদের লং রেঞ্জ অ্যান্টি-শিপ মিসাইল (LR-AShM)-এর এক উচ্চাভিলাষী সংস্করণ মূল্যায়ণ করছে, যার লক্ষ্য হলো ৩,৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত আঘাত হানার ক্ষমতা। বর্তমান ১,৫০০ কিলোমিটার পাল্লার তুলনায় এটি একটি বিশাল অগ্রগতি, যা LR-AShM-কে শুধুমাত্র উপকূলীয় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম থেকে একটি কৌশলগত সম্পদে পরিণত করবে, যা সমুদ্রের গভীরে থাকা দূরবর্তী নৌ হুমকি মোকাবিলায় সক্ষম হবে।
এই বর্ধিত পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রটি হাইপারসনিক বুস্ট-গ্লাইড প্রযুক্তি ব্যবহার করবে, যা এটিকে ঘণ্টায় প্রায় ১০ ম্যাক গতিতে উড়তে সাহায্য করবে এবং তারপর বায়ুমণ্ডলের উপরের স্তর দিয়ে লক্ষ্যবস্তুর দিকে গ্লাইড করবে। এই অভূতপূর্ব পাল্লা অর্জনের জন্য জটিল প্রকৌশলগত পরিবর্তন প্রয়োজন, যার মধ্যে রকেট মোটর, তাপ নিরোধক এবং উন্নত নেভিগেশন সিস্টেমের সম্পূর্ণ পুনর্গঠন অন্তর্ভুক্ত। দীর্ঘস্থায়ী হাইপারসনিক উড্ডয়নের সময় ২,০০০°C-এর বেশি তাপমাত্রা এবং তীব্র ঘর্ষণ সামলানো বিজ্ঞানীদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
এত বিশাল দূরত্বে নির্ভুল দিকনির্দেশনা অপরিহার্য। ভবিষ্যতের এই সিস্টেমে ভারতের নিজস্ব NavIC স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের সাথে ফাইবার-অপটিক জাইরোস্কোপের মতো শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ সেন্সর যুক্ত করা হবে, যা ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ারের পরিবেশেও নির্ভুলতা নিশ্চিত করবে। হাজার হাজার কিলোমিটার দূরত্বে লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়া আটকাতে এই বহু-স্তরীয় নেভিগেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৩,৫০০ কিলোমিটার পাল্লার LR-AShM-এর সফল বিকাশ আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নাটকীয়ভাবে পরিবর্তন করবে। এটি ভারতের মূল ভূখণ্ড এবং দ্বীপ অঞ্চলগুলিকে নৌ হুমকি থেকে রক্ষা করার জন্য একটি শক্তিশালী অ্যান্টি-অ্যাক্সেস/এরিয়া-ডিনায়াল (A2/AD) জোন তৈরি করবে। ব্রাহ্মোসের মতো বিদ্যমান অস্ত্রের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে, এই অতি-দ্রুত, দীর্ঘ-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র শত্রুদের জন্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করা অত্যন্ত কঠিন করে তুলবে, যা ভারতের দীর্ঘ-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন হবে।