টেক ডেস্কঃ ভারতের আকাশসীমা নজরদারির ক্ষমতা এবার এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে চলেছে অত্যাধুনিক ‘নেত্রা এমকে-২’ (NETRA MK-2) ব্যবস্থার মাধ্যমে। প্রতিটি বিমানে ১০০টিরও বেশি রাডার, সেন্সর এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম যুক্ত হচ্ছে, যা দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। সেন্টার ফর এয়ারবোর্ন সিস্টেমস (CABS), আদানি ডিফেন্স সিস্টেমস এবং এয়ারবাসের মধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারিত্ব ভারতের কৌশলগত অবস্থানকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রকল্পে এয়ার ইন্ডিয়া থেকে অধিগ্রহণ করা ছয়টি এয়ারবাস এ৩২১ বিমানকে ‘গ্রিন এয়ারক্রাফট’-এ রূপান্তরিত করা হবে। এআই ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসেস লিমিটেড এই বিমানগুলির বাণিজ্যিক অংশ সরিয়ে ফেলবে। এরপর বিমানগুলিকে স্পেনের এয়ারবাসের কারখানায় পাঠানো হবে ব্যাপক কাঠামোগত পরিবর্তনের জন্য, যাতে সেগুলিতে সামরিক নজরদারি ব্যবস্থা বসানো যায়। এই পদক্ষেপ অত্যাধুনিক মিশন স্যুটের ওজন, শক্তি এবং শীতলীকরণ চাহিদা মেটাতে অপরিহার্য।
পরিবর্তনের পর, NETRA MK-2 বিমানটি ৩৬০-ডিগ্রি নজরদারি চালাতে পারবে, যা শত শত কিলোমিটার দূর থেকে আকাশ ও সমুদ্রের বিভিন্ন হুমকি শনাক্ত ও ট্র্যাক করতে সক্ষম। এটি একটি আকাশভিত্তিক কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল সেন্টার হিসেবেও কাজ করবে, যা নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক অপারেশনগুলিকে উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করবে। ২০১৯ সালের বালাকোট হামলার সময় আকাশ নজরদারিতে যে ফাঁক দেখা গিয়েছিল, তার পরিপ্রেক্ষিতে এই সম্প্রসারণ অত্যন্ত জরুরি।
প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে প্রথম তিনটি বিমানে এয়ারবাসের সহায়তায় মিশন সিস্টেম যুক্ত করা হবে, এবং পরবর্তী বিমানগুলির জন্য আদানি ডিফেন্সকে প্রযুক্তি ও দক্ষতা দেওয়া হবে। এই পদ্ধতিটি দ্রুত অত্যাধুনিক প্রযুক্তি স্থাপন নিশ্চিত করার পাশাপাশি উন্নত আকাশ নজরদারি ব্যবস্থায় দেশীয় সক্ষমতা বাড়াবে, যা ভারতের ‘আকাশের চোখ’-এর জন্য এক নতুন যুগের সূচনা করবে।