কেন মাঝপথেই থামল ভারতের Apache হেলিকপ্টার কেনার দৌড়? নেপথ্যে ১,৩৫০ কোটির ধাক্কা!

Apache

ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় এক বড়সড় কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলল। আমেরিকা থেকে কেনা বিশ্বের অন্যতম সেরা এবং ঘাতক যুদ্ধাস্ত্র Apache AH-64E অ্যাটাক হেলিকপ্টার কেনার পরিকল্পনা অনেকটাই কাটছাঁট করল ভারত।

শুরুতে পরিকল্পনা ছিল মোট ৩৯টি এই ‘উড়ন্ত ট্যাঙ্ক’ কেনা হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মাত্র ২৮টি হেলিকপ্টার কিনেই এই ডিল বা চুক্তিতে ইতি টানা হয়েছে। ডিসেম্বর ২০২৫-এ শেষ তিনটি হেলিকপ্টার গাজিয়াবাদের Hindon Airbase-এ এসে পৌঁছানোর সাথেই এই চ্যাপ্টারটি কার্যত বন্ধ হয়ে গেল।

হঠাৎ কেন এই পিছুটান?

ভারতীয় বিমানবাহিনীর (IAF) হাতে রয়েছে ২২টি এবং সেনাবাহিনীর (Indian Army) হাতে মাত্র টি Apache। সেনাবাহিনীর জন্য শুরুতে ১৭টি কেনার কথা থাকলেও তা কমিয়ে মাত্র ছয়ে নামিয়ে আনা হয়েছে। কিন্তু কেন? এর পেছনে উঠে আসছে দুটি প্রধান কারণ—আকাশছোঁয়া দাম এবং আধুনিক যুদ্ধের পরিবর্তিত রূপ

১. টাকার অঙ্কটা মাথা ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো!

একটি Apache হেলিকপ্টারের দাম প্রায় ১৫০ মিলিয়ন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় দাঁড়ায় প্রায় ১,৩৫০ কোটি টাকা! নিঃসন্দেহে এটি একটি শক্তিশালী মেশিন—এতে রয়েছে অত্যাধুনিক রাডার, সেন্সর, Hellfire Missiles, Hydra Rockets, 30mm Cannon এবং Stinger Air-to-Air Missiles

কিন্তু এর তুলনায় ভারতের নিজস্ব দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি HAL প্রচন্ড হাল্কা যুদ্ধ হেলিকপ্টারের দাম মাত্র ৪৮ মিলিয়ন ডলার বা ৪০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ, একটি Apache-র দামে প্রায় তিনটি HAL প্রচন্ড হেলিকপ্টার কেনা সম্ভব!

আর্মি অ্যাভিয়েশন কর্পসের প্রাক্তন ডিরেক্টর জেনারেল, লেফটেন্যান্ট জেনারেল অজয় কুমার সুরি এ বিষয়ে স্পষ্ট জানিয়েছেন, “অ্যাপাচি (Apache) নিঃসন্দেহে একটি গেম-চেঞ্জার এবং অত্যন্ত শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম। কিন্তু এর বিপুল রক্ষণাবেক্ষণ খরচ এবং দামের কারণেই আরও ১১টি ইউনিট কেনা সম্ভব হয়নি।”

২. রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে শিক্ষা: ড্রোন যখন ত্রাস

দ্বিতীয় এবং সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণটি হলো আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের পরিবর্তন। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে, বিশাল ও ভারী অ্যাটাক হেলিকপ্টারগুলো এখন কতটা অরক্ষিত।

২০২৫-এর একটি NATO স্টাডি বা সমীক্ষায় দেখা গেছে, যুদ্ধের প্রথম দুই বছরে রাশিয়া তাদের ১০০টিরও বেশি গানশিপ হারিয়েছে। এর মধ্যে প্রায় 60% ধ্বংস হয়েছে MANPADS (কাঁধে রেখে ছোঁড়া মিসাইল) দিয়ে। বাকিগুলো অ্যান্টি-এয়ারক্রাফট আর্টিলারি বা সাধারণ RPG-র শিকার হয়েছে।

সবচেয়ে ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সস্তা ড্রোন। সেপ্টেম্বর ২০২৫-এর একটি ঘটনা গোটা বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল—মাত্র ৫০০ ডলারের একটি FPV Drone রাশিয়ার ১০ মিলিয়ন ডলারের Mi-8 হেলিকপ্টারকে ধ্বংস করে দেয়।

এমনকি ২০০৩ সালে ইরাকের কারবালাতেও Apache-র দুর্বলতা সামনে এসেছিল। সেখানে সাধারণ ছোট আগ্নেয়াস্ত্রের গুলিতে ৩০টি Apache-র সবকটিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং একটি ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল।

ভবিষ্যৎ কী?

একজন সিনিয়র ভারতীয় মিলিটারি অফিসার এবং প্রাক্তন পাইলট বলেছেন, “আমাদের এখন এদের জন্য নতুন ভূমিকা খুঁজতে হবে।” অর্থাৎ, অ্যাপাচিগুলোকে আর সরাসরি ফ্রন্টলাইনে বা শত্রুর খুব কাছে পাঠানো বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। খোদ আমেরিকান আর্মিও তাদের ২০২৬-এর বাজেটে নতুন অ্যাপাচি কেনা বন্ধ করে দিয়েছে এবং তারা এখন রোবোটিক চালকবিহীন প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছে।

ভারতের স্ট্র্যাটেজিক শিফট

এর মানে কি Apache অপ্রয়োজনীয়? একদমই নয়। বিশেষ কিছু মিশনের জন্য এটি এখনও অপ্রতিদ্বন্দ্বী। কিন্তু ভারত এখন সস্তা অথচ কার্যকরী সমাধানের দিকে ঝুঁকছে। পাকিস্তান বা চিনের সীমান্তে লড়াইয়ের জন্য ভারতের নিজস্ব প্রচন্ড, তেজাস এবং AMCA প্রজেক্টগুলো অনেক বেশি সাশ্রয়ী এবং কার্যকরী হতে পারে।

এই মুহূর্তে

আকাশ থেকে নিখুঁত আঘাত! ভারতের হাতে আসছে ১০০০টি ‘রাফায়েল স্পাইস’ মিসাইল, চিন্তায় পড়শী দেশগুলি

৩ থেকে ৫ লাখ টাকাতেই বাড়ির সামনে নতুন গাড়ি! মাইলেজ ৩৪ কিমি-মধ্যবিত্তের স্বপ্নপূরণের সেরা ৫টি অপশন

Amazon Sale 2026: বছরের শুরুতেই ধামাকা! iPhone থেকে AC – কখন পাবেন সেরা ডিসকাউন্ট? রইল পুরো ক্যালেন্ডার

Vivo-র নতুন ধামাকা! বিশাল ব্যাটারি আর দুর্দান্ত স্টোরেজ নিয়ে এল Vivo Y500i, দাম জানলে অবাক হবেন