টেক ডেস্কঃ ভারত ও আমেরিকার মধ্যে দীর্ঘদিনের ‘ব্রোম্যান্স’ এখন এক কঠিন পরীক্ষার মুখে। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাশ হওয়া এক নতুন রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা বিল দুই দেশের দশকের পর দশক ধরে গড়ে ওঠা কূটনৈতিক সম্পর্ককে ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে। ওয়াশিংটনে ব্যাপক দ্বিদলীয় সমর্থনে পাশ হওয়া এই আইন মার্কিন প্রেসিডেন্টকে রাশিয়ার তেল ও গ্যাস আমদানিকারক দেশগুলির উপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দিয়েছে। এর লক্ষ্য রাশিয়া হলেও, এর বিধান ভারতের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলবে, যা দিল্লিকে এক কঠিন সিদ্ধান্তের সামনে দাঁড় করিয়েছে: হয় আমেরিকার কৌশলগত অগ্রাধিকারের কাছে তার বিশাল জ্বালানি চাহিদা বিসর্জন দিক, অথবা গুরুতর অর্থনৈতিক পরিণতির মুখোমুখি হোক।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের মাত্র ১৮ মাসের মধ্যে এই জোরপূর্বক পদক্ষেপ ওয়াশিংটনের ‘নিয়ম-ভিত্তিক বিশ্ব ব্যবস্থা’র কথার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলিকে দেওয়া ছাড় এবং আমেরিকার নিজেদের রাশিয়ান ইউরেনিয়াম আমদানি চালিয়ে যাওয়া, এই অসমতা তুলে ধরে। এতে স্পষ্ট যে, ভারতের ১.৪ বিলিয়ন মানুষের বিশাল জ্বালানি চাহিদা সত্ত্বেও তাকেই নিশানা করা হচ্ছে। ব্রিকস সম্মেলনের পরপরই এই বিলের সময়কাল ভারতের স্বাধীন বিদেশনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করার একটি প্রচেষ্টা বলে মনে হচ্ছে।
দিল্লির বর্তমান সতর্ক অবস্থানকে দুর্বলতা হিসেবে ভুল ব্যাখ্যা করা হতে পারে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভারতকে ইন্দো-মার্কিন সম্পর্কের দীর্ঘস্থায়ী টানাপোড়েনের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে, যেখানে সম্পর্ক আরও ঠান্ডা ও লেনদেন-ভিত্তিক হয়ে উঠবে। এর জন্য জ্বালানি সরবরাহ, বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব, প্রতিরক্ষা জোট এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ব্যাপক বৈচিত্র্য আনা অপরিহার্য, যাতে কোনো একক শক্তির উপর নির্ভরতা কমে। ‘গণতন্ত্রের অংশীদারিত্বে’র যুগ সম্ভবত এক কঠিন বাস্তবতার দিকে মোড় নিচ্ছে, যা ভারতের কাছ থেকে স্পষ্ট ও দৃঢ় অবস্থান দাবি করছে।