টেক ডেস্কঃ পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে তুর্কি সংবাদমাধ্যমগুলি বর্তমানে India Turkey Israel Greece-কে ঘিরে একটি ভুল জোটের গল্প বুনছে, যদিও এই আঞ্চলিক বিবাদে ভারতের কোনো সরাসরি ভূমিকা নেই। সম্প্রতি একটি তুর্কি সম্প্রচারে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ছবি তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগান এবং ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের পাশে দেখিয়ে ভারতকে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টেনে আনার চেষ্টা করা হয়েছে, যার মূল শিকড় সিরিয়ার অস্থিরতা।
ইজরায়েলের সিরিয়ায় বিমান হামলার পর আঙ্কারা ও জেরুজালেমের মধ্যে সম্পর্ক খারাপ হওয়ায় এই মিডিয়া প্রচার আরও বাড়ছে। গ্রীস ও ইজরায়েলের সঙ্গে ভারতের বাড়তে থাকা কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে তুরস্ক নিজেদের প্রভাব খর্ব করার একটি বৃহত্তর জোটের অংশ হিসেবে দেখছে। তাদের এই ধারণা আঙ্কারার গভীর কৌশলগত উদ্বেগের প্রতিফলন, যেখানে তারা মনে করছে যে ভারত তাদের প্রতিপক্ষদের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছে।
তবে, এই দাবিগুলি ভারতের পররাষ্ট্রনীতিকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে। ভারত সবসময় তার কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন কঠোরভাবে রক্ষা করেছে এবং কোনো সামরিক জোটে আবদ্ধ হয়নি। ইজরায়েল ও গ্রীসের সঙ্গে তার সম্পর্ক সম্পূর্ণরূপে ভারতের নিজস্ব কৌশলগত প্রয়োজন, সামরিক আধুনিকীকরণ এবং বাণিজ্য লক্ষ্য দ্বারা পরিচালিত। এমনকি, দিল্লি একইসাথে ইরান এবং বিভিন্ন আরব রাষ্ট্রের সঙ্গেও শক্তিশালী কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখে, যা তার ভারসাম্যপূর্ণ বিদেশনীতির প্রমাণ।
ভূমধ্যসাগরের দূরবর্তী কোনো সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার কোনো কৌশলগত কারণ ভারতের নেই। ভারতের প্রধান নিরাপত্তা উদ্বেগগুলি ভারত মহাসাগরে আধিপত্য, বিশ্বশক্তির সঙ্গে ভারসাম্য রক্ষা এবং গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্য পথ সুরক্ষিত করা। এই পরিস্থিতিতে, ভারত তার স্বাধীন পথেই চলবে এবং তার বৈশ্বিক পদক্ষেপগুলিই এই ভিত্তিহীন গুজবগুলিকে মিথ্যা প্রমাণ করবে।