টেক ডেস্কঃ ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL)। লাইট কমব্যাট এয়ারক্রাফট (LCA) তেজস মার্ক ২-এর জন্য যুগান্তকারী স্বদেশী প্রযুক্তির উন্মোচন করেছে সংস্থাটি। এই কৌশলগত পদক্ষেপ সামরিক বিমান চালনায় ভারতকে সম্পূর্ণ স্বনির্ভরতার দিকে নিয়ে যাচ্ছে, যা বিদেশি নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উদ্ভাবনকে প্রাধান্য দিচ্ছে।
অন্যতম প্রধান অগ্রগতি হলো অত্যাধুনিক অপটিক্যাল ফুয়েল-লেভেল সেন্সিং সিস্টেম, যা পুরনো, কম্পন-প্রবণ পদ্ধতির তুলনায় নির্ভুলতা বহু গুণ বাড়িয়েছে। এই আলো-ভিত্তিক প্রযুক্তি মিশনের পরিকল্পনা এবং পাইলটদের দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সঠিক ও রিয়েল-টাইম জ্বালানির তথ্য নিশ্চিত করে। এর ডিজাইন ও সফটওয়্যারের উপর HAL-এর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ সাপ্লাই চেইন ঝুঁকি এবং বিদেশি ব্যয় দূর করে।
এছাড়াও, নতুন RS422 ডেটা অ্যাকুইজিশন সিস্টেম অপারেশনাল দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করছে। এই গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোটি বিমানের বৈদ্যুতিক ইউনিটগুলির ক্রমাগত পর্যবেক্ষণ করে, যা রক্ষণাবেক্ষণ দলের জন্য একটি প্রাথমিক সতর্কীকরণ ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে। এটি পূর্বাভাসমূলক মেরামতের সুবিধা দেয়, বিমানের ডাউনটাইম উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয় এবং ভারতীয় বিমানবাহিনীর জন্য তেজস মার্ক ২-এর যুদ্ধ-প্রস্তুতি নিশ্চিত করে।
এই আপগ্রেডগুলি একটি বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। HAL ইন্টিগ্রেটেড ইলেকট্রনিক ইউনিট, একটি রেডিও আল্টিমিটারের পাশাপাশি ভারতের উত্তম AESA রাডার এবং ইনফ্রারেড সার্চ অ্যান্ড ট্র্যাক (IRST) সেন্সর ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এই উদ্ভাবনগুলি ভবিষ্যতের অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফট (AMCA) প্রকল্পের সঙ্গে নির্বিঘ্নে যুক্ত হবে, যা দীর্ঘমেয়াদী জীবনচক্রের ব্যয় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই Tejas Mk2 indigenous technology শুধুমাত্র জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করবে না, বরং ভারতের উন্নত মহাকাশ প্রকৌশলের ভবিষ্যৎের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করবে।