ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জনের পথে আরও এক বড় সাফল্যের দিকে এগিয়ে চলেছে Hindustan Aeronautics Limited (HAL)। চলতি বছরের জুলাই ২০২৫-র শেষের দিকেই নাসিক ইউনিট থেকে রোলআউট হচ্ছে প্রথম TEJAS MK-1A যুদ্ধবিমান। এটি ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি Light Combat Aircraft (LCA) কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
HAL-এর চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর ডি. কে. সুনীল জানিয়েছেন, নাসিক প্ল্যান্টে প্রথম TEJAS MK-1A-র চূড়ান্ত অ্যাসেম্বলি ও টেস্টিং চলছে পুরোদমে। বেঙ্গালুরুর দুইটি উৎপাদন লাইনের সঙ্গে এটি হবে HAL-এর তৃতীয় প্রোডাকশন লাইন। চলতি বছরে নাসিক থেকে ৩–৪টি বিমান রোলআউট হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ২০২৬-২৭ সালের মধ্যে বার্ষিক উৎপাদন ৩০টি বিমানে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
ASTRA ক্ষেপণাস্ত্র সংযোজন: আগস্টে পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ
ভারতীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত ASTRA Beyond Visual Range Air-to-Air Missile (BVRAAM) সংযোজন এই যুদ্ধবিমানের জন্য একটি বড় মাইলফলক। DRDO-র তৈরি এই মিসাইলটি ইতিমধ্যেই মার্চ ২০২৫-এ সফল টেস্ট ফায়ার সম্পন্ন করেছে। আগামী আগস্ট ২০২৫-এর শুরুতেই TEJAS MK-1A-তে ASTRA-র পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ নির্ধারিত হয়েছে। ১০০ কিমি-র বেশি রেঞ্জে আঘাত হানতে সক্ষম এই অস্ত্র ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষমতা বহুগুণে বাড়াবে।
ইঞ্জিন সরবরাহে বাধা
এত উন্নতি সত্ত্বেও General Electric (GE)-র F404-IN20 ইঞ্জিন সরবরাহে বিলম্বের জন্য উৎপাদনে কিছুটা জট তৈরি হয়েছে। GE মার্চ ২০২৫-এ প্রথম ইঞ্জিন সরবরাহ করেছে এবং বছরে ১২টি ইঞ্জিন সরবরাহের অঙ্গীকার করেছে। জুলাই থেকে প্রতি মাসে দু’টি করে ইঞ্জিন পাঠানো হবে বলে আশ্বাস মিলেছে, যা HAL-এর ১২টি বিমান ডেলিভারির লক্ষ্যে সহায়ক হবে।
রাডার বিতর্ক: ELTA না UTTAM AESA?
প্রথম ৪০টি TEJAS MK-1A-তে ইসরায়েলি ELTA AESA রাডার ব্যবহৃত হচ্ছে, যদিও DRDO-র তৈরি Uttam AESA রাডার ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল ৪১তম বিমানে। কিন্তু সার্টিফিকেশনের দেরির কারণে HAL বাধ্য হয়েছে ELTA চালিয়ে যেতে। Uttam রাডার ২০২৬ সাল থেকে সংযুক্ত করা শুরু হবে, যার মধ্যে রয়েছে ৯১২টি Transmit-Receive মডিউল এবং উন্নত ইলেকট্রনিক বিম স্টিয়ারিং ফিচার।
প্রাইভেট সংস্থার ভূমিকা বাড়ছে
একসময় পুরোপুরি সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন এই প্রকল্পে এখন অংশ নিচ্ছে VEM Technologies, Alpha Tocol ও L&T-র মতো প্রাইভেট সংস্থাগুলি। মে ২০২৫-এ VEM Technologies প্রথমবার Centre Fuselage সরবরাহ করেছে। এর মাধ্যমে বছরে আরও ৬টি বিমান তৈরি সম্ভব হচ্ছে, যা উৎপাদন ক্ষমতা ৩০-এ পৌঁছাতে সাহায্য করবে।
ডেলিভারি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
HAL চলতি বছরেই ১২টি TEJAS MK-1A ডেলিভারি করতে চায়। ২০২৬-২৭ সাল থেকে প্রতিবছর ৩০টি করে বিমান তৈরি হবে। ইতিমধ্যেই IAF ৮৩টি TEJAS MK-1A-এর জন্য ₹৪৮,০০০ কোটির চুক্তি করেছে এবং আরও ৯৭টির জন্য ₹৬৭,০০০ কোটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে।
IAF-এর Air Staff Qualitative Requirements (ASQRs) পূরণের জন্য HAL ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। কিছু দেরি থাকলেও একাধিক অংশীদার সংস্থা ও প্রযুক্তিগত জটিলতা একত্রে সমাধানের চেষ্টা চলছে।
Atmanirbhar Bharat-এর মিশনে TEJAS MK-1A একটি পথপ্রদর্শক মডেল। ASTRA সংযোজন, প্রাইভেট সংস্থার অংশগ্রহণ, উৎপাদন বৃদ্ধির এই সাফল্য ভবিষ্যতের TEJAS MK-2 ও AMCA প্রকল্পকে অনুপ্রাণিত করতে পারে।