ভারতের প্রতিরক্ষা জগতে অভাবনীয় সাফল্যের ছাপ রাখলো টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমস লিমিটেড (TASL)। সংস্থাটি তাদের সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ড্রোন ও রিমোটলি পাইলটেড এয়ারক্রাফট (RPA) নিয়ে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে, যা ইতিমধ্যেই যুদ্ধক্ষেত্রে কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে। শুধু ভারত নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও এই ড্রোনগুলি আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
দেশীয় প্রযুক্তির নির্ভরতা ও গর্ব
TASL-এর তৈরি ড্রোনগুলোর ডিজাইন থেকে শুরু করে উৎপাদন ও সফটওয়্যার—সবকিছুই ভারতে নির্মিত। এয়ারফ্রেম, অটোপাইলট, গ্রাউন্ড কন্ট্রোল সফটওয়্যার থেকে শুরু করে হাই-রেজোলিউশন ক্যামেরা ও মাল্টিস্পেকট্রাল সেন্সর ব্যবহৃত হয়েছে এতে। স্বয়ংক্রিয় এই ড্রোনগুলো পাহাড়, জঙ্গল, এমনকি জাহাজের ডেকে পর্যন্ত অনায়াসে পরিচালিত হতে পারে।
TASL-এর গুরুত্বপূর্ণ ড্রোন মডেল
▪ALS 50:
VTOL (Vertical Take-Off and Landing) ক্ষমতাসম্পন্ন এই ড্রোনটি ভিশন গাইডেন্স সিস্টেম ও টার্গেটিং প্রযুক্তি-সহ সজ্জিত। এটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর উদ্ভাবন পুরস্কার লাভ করেছে এবং লাদাখ ও রাজস্থানের কঠিন পরিস্থিতিতে সফলভাবে কাজ করেছে। এর ওজন প্রায় ১৮ কেজি, রেঞ্জ ১৫-২৫ কিমি, এবং ৩,০০০ মিটার উচ্চতায় কাজ করতে সক্ষম।
▪ALS 250:
ALS 50-এর উন্নত সংস্করণ এটি। এতে ইন্টারনাল কম্বাসশন ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে, ফলে এটি ২৫০ কিমি রেঞ্জ অর্জন করে। ১০,০০০ ফুট উচ্চতা থেকে লঞ্চ করা যায়, সীমান্ত নজরদারির জন্য আদর্শ।
▪ALS 50 Mk-2:
ব্যবহারকারীদের প্রতিক্রিয়া অনুযায়ী উন্নত এই সংস্করণটি আরও কার্যকর।
▪iVTOL:
একটি আধুনিক নজরদারি ড্রোন, যাতে gimballed day-night ক্যামেরা এবং onboard image processing প্রযুক্তি রয়েছে। কঠিন পরিবেশেও এটি লক্ষ্যবস্তুকে অনুসরণ করতে পারে।
যুদ্ধক্ষেত্রে কার্যকারিতা
মে ২০২৫-এ ‘অপারেশন সিঁদুর‘-এ এই ড্রোনগুলোর ব্যবহার এক কথায় চমকপ্রদ। সন্ত্রাসবাদ বিরোধী অভিযানে নজরদারি ও টার্গেটিং-এ এগুলো নিখুঁতভাবে কাজ করেছে, যার ফলে নির্ভুলতা বৃদ্ধি পেয়েছে ও ক্ষয়ক্ষতি কমেছে। এই মিশনের সাফল্য প্রমাণ করেছে যে, এই ড্রোনগুলো সত্যিকারের ‘যুদ্ধ-পরীক্ষিত’ প্রযুক্তি।
বিশেষত্ব :
- স্বয়ংক্রিয়ভাবে মিশন সম্পূর্ণ ক্ষমতা
- রিয়েল-টাইম ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল ও ইনফ্রারেড ভিডিও ফিড
- ফেইল-সেফ রিটার্ন ও মিশন ক্যানসেল ফিচার
- সব পরিবেশে কাজ করতে দক্ষ
TASL এখন MALE (Medium Altitude Long Endurance) ড্রোন তৈরির দিকে অগ্রসর হচ্ছে। যা ৩০,০০০ ফুট উচ্চতায় উড়তে পারবে ও ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় নজরদারি চালাতে পারবে। এই উদ্যোগ ‘আত্মনির্ভর ভারত’ অভিযানে আরও গতি আনবে।