আধুনিক বিমান যুদ্ধে নিষ্ক্রিয় স্টিলথ প্রযুক্তির দিন ফুরিয়ে আসছে। এখন শুধুমাত্র রাডার থেকে লুকিয়ে থাকা নয়, বরং তাপীয় (ইনফ্রারেড) সংকেতও লুকাতে হচ্ছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায়, নেক্সট জেনারেশন এয়ার ডমিনেন্স (NGAD) ও আপগ্রেড করা F-35 যুদ্ধবিমানগুলি অত্যাধুনিক তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, বহু-বর্ণালী লেপ (multi-spectral coatings), এবং নির্গমন নিষ্কাশন পদ্ধতি ব্যবহার করছে। উচ্চ গতিতে বিমান দেহের তাপ কমাতেও নতুন ডিজাইন ব্যবহার করা হচ্ছে।
যুদ্ধক্ষেত্রে আরও কার্যকর হতে, মনুষ্যবাহী-অমনুষ্যবাহী দলবদ্ধ কার্যক্রম (MUM-T) বা ‘লয়াল উইংম্যান’ ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। এই ড্রোনগুলি মূল স্টিলথ বিমানকে সুরক্ষিত রেখে শত্রু সেন্সরগুলিকে বিভ্রান্ত করে। একই সাথে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এখন বিমানের ‘ক্লোথ ম্যানেজার’ হিসেবে কাজ করছে, রিয়েল-টাইমে বিমানের স্বাক্ষর নিয়ন্ত্রণ করছে এবং শত্রুর ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার বা রাডার ফ্রিকোয়েন্সি পরিবর্তন অনুযায়ী নিজেকে মানিয়ে নিচ্ছে। AI এমনকি শত্রুর অবস্থানের উপর ভিত্তি করে বিমানের গতির পথও প্রস্তাব করছে যাতে রাডার ফাঁক এড়ানো যায়।
তবে, চীন ও ভারতের মতো দেশগুলি ‘কোয়ান্টাম রাডার’ নিয়ে কাজ করছে, যা স্টিলথ প্রযুক্তির ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিকে অকার্যকর করে দিতে পারে। কোয়ান্টাম রাডার ‘জট পাকানো’ (entangled) ফোটন ব্যবহার করে বস্তুর উপস্থিতি সনাক্ত করে, যা বিমানের আকৃতি বা রাডার-শোষক উপাদানের পরোয়া করে না। এই প্রযুক্তিগত অচলাবস্থা মোকাবেলায় ‘কোয়ান্টাম জ্যামিং’ এবং বহু-স্থির (multi-static) সেন্সর নেটওয়ার্ক ব্যবহার করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। অর্থাৎ, ভবিষ্যৎ বিমান যুদ্ধ অদৃশ্য হওয়ার চেয়ে ‘পৃথক করা অসম্ভব’ হওয়ার দিকেই এগোচ্ছে, যেখানে চূড়ান্ত বিজয় নির্ভর করবে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং কৌশলগত দক্ষতার উপর।