ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় যুক্ত হতে চলেছে এক নতুন অধ্যায়। ডিআরডিও (DRDO) অর্থাৎ ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন এবার তাদের তূণীরে এমন এক অস্ত্র যোগ করতে চলেছে, যা শুনে শত্রুপক্ষ নিঃসন্দেহে চিন্তায় পড়ে যাবে। কথা হচ্ছে পিনাকা মাল্টি-ব্যারেল রকেট লঞ্চার সিস্টেম-এর একদম নতুন এবং উন্নত সংস্করণ পিনাকা এমকে-৩ (Pinaka Mk-3) নিয়ে।
শোনা যাচ্ছে, এই বিধ্বংসী রকেট সিস্টেমটি ১২০ কিলোমিটার দূরের যে কোনও লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম। আগে ঠিক ছিল যে এর ট্রায়াল বা পরীক্ষা ২০২৫-এর শেষের দিকে হবে, কিন্তু নতুন খবর অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরুর দিকেই এর ‘লং-রেঞ্জ ফায়ারিং ট্রায়াল’ শুরু হতে চলেছে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য এটি নিঃসন্দেহে একটি ‘গেম চেঞ্জার’ হতে চলেছে।
কেন এই পিনাকা এমকে-৩ এত স্পেশাল?
এই নতুন ভার্সনটি আগের গাইডেড পিনাকা (যার রেঞ্জ ছিল ৭৫ কিলোমিটার) থেকে অনেক বেশি উন্নত প্রযুক্তিতে তৈরি। এতে ব্যবহার করা হয়েছে ইনারশিয়াল ন্যাভিগেশন সিস্টেম (INS) এবং স্যাটেলাইট ন্যাভিগেশন প্রযুক্তি। এর মানে হলো, রকেটগুলো পথভ্রষ্ট হবে না, একদম সোজা গিয়ে পিনপয়েন্ট অ্যাকিউরেসিতে লক্ষ্যে আঘাত করবে। ডিআরডিও-র অন্যতম ল্যাব আর্মামেন্ট রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এস্টাবলিশমেন্ট (ARDE) ইতিমধ্যেই এর ‘প্রি-প্রোডাকশন’ মডেল তৈরি করে ফেলেছে।
সবচেয়ে বড় সুবিধার কথাটি হলো – খরচ সাশ্রয়। এই নতুন মিসাইল ছোড়ার জন্য নতুন কোনো লঞ্চার বা গাড়ি কেনার দরকার নেই। পুরনো পিনাকা লঞ্চার থেকেই এটি ফায়ার করা যাবে। এতে একদিকে যেমন আপগ্রেড করা সহজ হবে, তেমনই বিপুল খরচও বাঁচবে। এতদিন ভারত রাশিয়ার তৈরি ‘স্মার্চ’ (Smerch) বা ‘গ্র্যাড’ (Grad) সিস্টেমের ওপর অনেকটা নির্ভরশীল ছিল। এবার সেই নির্ভরতা কমবে এবং দেশীয় প্রযুক্তিতেই ভারতীয় সেনা শত্রুর গভীর এলাকায় থাকা ‘হাই-ভ্যালু টার্গেট’ ধ্বংস করতে পারবে। বিশ্বের দরবারেও এই সিস্টেমের কদর বাড়ছে, ইতিমধ্যেই আর্মেনিয়া-র মতো দেশে এটি রপ্তানি হয়ে এর কার্যক্ষমতা প্রমাণিত হয়েছে।
উৎপাদন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
ট্রায়াল সফল হলেই ভারতীয় সেনা এটি কেনার প্রক্রিয়া শুরু করবে, যার সম্ভাব্য দাম প্রায় ২,৫০০ কোটি টাকা। দ্রুত সাপ্লাই নিশ্চিত করতে সেনা চাইছে সোলার ইন্ডাস্ট্রিজ এবং মিউনিশনস ইন্ডিয়া লিমিটেড-এর মতো ডিফেন্স করিডর প্রোডাকশন পার্টনার (DCPP)-দের কাজে লাগাতে। লক্ষ্য হলো, অর্ডার পাওয়ার ১৮ থেকে ২৪ মাস-এর মধ্যেই যেন সেনাবাহিনী হাতে এই অস্ত্র পেয়ে যায়।
তবে এখানেই শেষ নয়, ভবিষ্যতে আসতে চলেছে পিনাকা এমকে-৪, যার রেঞ্জ হবে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার! চিন বা প্রতিবেশী দেশগুলোর দিক থেকে আসা হুমকির মোকাবিলায় এবং বর্ডার সিকিউরিটি আরও মজবুত করতে এটি ভারতকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।