কাশ্মীরসহ সমস্ত অমীমাংসিত ইস্যুতে ভারতের সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত পাকিস্তান, কি করবে ভারত?

Pak is begging

পাকিস্তান-এর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপ-প্রধানমন্ত্রী ইশাক দার ফের একবার স্পষ্ট করলেন, ইসলামাবাদ ভারতের সঙ্গে কেবল কাশ্মীর নয় বরং সমস্ত অমীমাংসিত দ্বিপাক্ষিক ইস্যুতে আলোচনায় প্রস্তুত। পারমাণবিক শক্তিধর দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে মে 2025-এর ভয়ঙ্কর সামরিক সংঘাতের পরে এ মন্তব্যকে কূটনৈতিক দিক থেকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

পাকিস্তানের অবস্থান: কম্পোজিট ডায়ালগের দাবি

ইসলামাবাদ-এর পার্লামেন্টের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ইশাক দার বলেন, আলোচনা যদি হয়, তবে শুধু কাশ্মীর নয়, সমস্ত ইস্যুতেই হবে।” পাকিস্তানের তরফে যে আলোচনার কথা বলা হচ্ছে, সেটি আসলে ‘কম্পোজিট ডায়ালগ ফ্রেমওয়ার্ক’। এর আওতায় কাশ্মীর, সীমান্ত সন্ত্রাস, বাণিজ্য, জলবণ্টন– এমনকি স্থগিত থাকা সিন্ধু জল চুক্তি নিয়েও কথা বলার প্রস্তাব রয়েছে।

এই কম্পোজিট ডায়ালগ প্রথম চালু হয়েছিল 2003 সালে, জেনারেল পারভেজ মোশাররফ-এর আমলে। সেই সময় আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল কাশ্মীর থেকে শুরু করে সংস্কৃতি বিনিময় পর্যন্ত। জুলাই ২০২৫-এও আটলান্টিক কাউন্সিল-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে দার একই সুরে বলেছিলেন—“পাকিস্তান প্রস্তুত আছে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য থেকে সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই পর্যন্ত সব বিষয়ে সহযোগিতা করতে।”

মে ২০২৫ সামরিক সংঘাত ও মার্কিন হস্তক্ষেপ

কূটনৈতিক মেসেজটি এসেছে ঠিক তিন মাস পর, যখন এপ্রিলের পহেলগাঁও সন্ত্রাসী হামলা (২২ এপ্রিল ২০২৫)-এ ২৬ জন নিরপরাধ হিন্দু পর্যটককে হত্যার পর ভারত শুরু করেছিল বড়সড় সামরিক অভিযান। এই নৃশংস হামলার দায় নেয় দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (TRF), যেটি আসলে লস্কর-ই-তৈবা-রই একটি প্রক্সি সংগঠন।

এর জবাবে ভারত চালায় ভয়ঙ্কর সামরিক অভিযান অপারেশন সিঁদুর (৭ মে ২০২৫)। মাত্র ২২ মিনিটের মধ্যে পাকিস্তানপাকিস্তানঅধিকৃত কাশ্মীরের ৯টি জঙ্গি প্রশিক্ষণ শিবির ও অবকাঠামোকে নিশানা বানানো হয়। এটাই ছিল 1971 যুদ্ধ-এর পর ভারতের সবচেয়ে বড় ক্রস-বর্ডার স্ট্রাইক।

পাকিস্তানও পাল্টা চাল চালায় অপারেশন বুনিয়ান-আন-মারসুস (অর্থ: সীসার শক্ত প্রাচীর)। তারা ড্রোন ও ব্যালিস্টিক মিসাইল দিয়ে ভারতের একাধিক এয়ারবেসে হামলার চেষ্টা চালায়।

তীব্র উত্তেজনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি ফোনে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-র সঙ্গে। একইভাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দুই দেশেই কূটনৈতিক যোগাযোগ চালিয়ে যান। শেষমেশ ১০ মে ২০২৫, বিকেল টা থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।

পাকিস্তানের দাবি: ভারতই ডাকেছিল মার্কিন মধ্যস্থতা

সম্প্রতি ইশাক দার বলেন, পাকিস্তান আসলে মার্কিন মধ্যস্থতা চায়নি। বরং আমেরিকার পক্ষ থেকে কল আসার পরই তারা যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়। দারের দাবি, “পাকিস্তান যুদ্ধ চাইনি।” পাকিস্তানি কর্তারা এখন বলছেন, আসলে ভারতই আমেরিকার দ্বারস্থ হয়ে যুদ্ধবিরতির আবেদন করেছিল।

এর পর থেকে দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে ডিজিএমও-স্তরের যোগাযোগ নিয়মিত চালু হয়েছে। দারের দাবি, আপাতত যুদ্ধবিরতি চুক্তি অক্ষত রয়েছে।

ভারতের পাল্টা অবস্থান: সন্ত্রাস আর আলোচনায় একসাথে চলতে পারে না

অন্যদিকে, ভারতের অবস্থান একেবারেই কঠোর। সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং স্পষ্ট বলেন—“যে দেশ সন্ত্রাসবাদকে মদত দেয়, তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসা যায় না।”

একই সুরে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর-ও জানান, “সন্ত্রাসবাদ এবং আলোচনা একসাথে চলতে পারে না। অর্থাৎ পাকিস্তান যদি সত্যিই আলোচনায় বসতে চায়, তবে আগে জঙ্গি পরিকাঠামো নির্মূল করে ফেলতে হবে।

এমনকি যুদ্ধবিরতির পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সতর্ক করে দেন, ভবিষ্যতে আবারও কোনো জঙ্গি হামলা হলে ভারত সুনির্দিষ্টভাবে এবং সিদ্ধান্তমূলকভাবে” প্রতিশোধ নেবে।

জট কাটবে কি?

সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল। পাকিস্তান চাইছে বিস্তৃত আলোচনার মাধ্যমে সব ইস্যু একসাথে মীমাংসা করতে। কিন্তু ভারত স্পষ্ট করে দিয়েছে, একমাত্র ক্রস বর্ডার সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণেই আলোচনার সীমাবদ্ধতা থাকবে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শাফকাত আলী খান অবশ্য আশাবাদী সুরে বলেছেন—“পাকিস্তান প্রস্তুত আছে ভারতের সঙ্গে সব ইস্যুতেই বসতে।” কিন্তু বাস্তবিকপক্ষে জুলাই ২০২৫ যুদ্ধবিরতি-এর পর থেকে রাজনৈতিক পর্যায়ে কোনো আলোচনা হয়নি। শুধু সামরিক পর্যায়ে সীমিত যোগাযোগ বজায় আছে।

ফলে বোঝাই যাচ্ছে, আপাতত শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে দুই দেশই ভিন্ন ভিন্ন অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে। পাকিস্তান চাইছে বহুমুখী ডায়ালগ, আর ভারত জোর দিচ্ছে কেবল সন্ত্রাসবাদের প্রশ্নে কঠোর পদক্ষেপের ওপর। ফলে দক্ষিণ এশিয়ার এই দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে প্রকৃত কূটনৈতিক সমাধান আসতে এখনও অনেকটা পথ বাকি।

এই মুহূর্তে

ইয়ান লেকান অ্যানথ্রোপিকের ৫০% চাকরি হারানোর পূর্বাভাস খারিজ করলেন মেটার প্রধান এআই বিজ্ঞানী

AI Chatbot আত্মহত্যা: চ্যাটবটের পরামর্শে ব্যক্তির মৃত্যু, উঠছে গুরুতর প্রশ্ন

পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন ২০২৬: বাঁশের বেড়া থেকে এআই প্রযুক্তি, অভূতপূর্ব সুরক্ষা

Project বিষ্ণুর ET-LDHCM হাইপারসনিক মিসাইল: ভারত Mach 8 গতির পথে