ভারতের সমুদ্রপথকে আরও সুরক্ষিত করতে বড় পদক্ষেপ নিল Indian Navy। বহুদিন ধরে ঝুলে থাকা Mine Countermeasure Vessel (MCMV) বা Minesweeper নির্মাণ প্রকল্প আবারও চালু হচ্ছে। প্রায় ₹৪৪,০০০ কোটি টাকার এই পরিকল্পনায় তৈরি হবে ১২টি অত্যাধুনিক মাইনসুইপার জাহাজ, যারা জলের নিচে শত্রুর পেতে রাখা মাইন বা বিস্ফোরক সনাক্ত, ট্র্যাক এবং ধ্বংস করতে পারবে। এর ফলে ভারতের সমুদ্রবন্দর, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের পথ ও আরও নিরাপদ হবে।
কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্প?
বর্তমানে Indian Navy-র কাছে কার্যকর Minesweeper একেবারেই নেই। এক সময় ছিল, কিন্তু গত এক দশকে সেই সংখ্যাটা শূন্যে এসে ঠেকেছে। এই ঘাটতি মারাত্মক, কারণ চীন ও পাকিস্তানের মত প্রতিবেশী দেশের সামুদ্রিক তৎপরতা বেড়েই চলেছে। মাইন হামলা হলে একাধিক বন্দর অচল হয়ে যেতে পারে, থমকে যেতে পারে বাণিজ্য। তাই নতুন Minesweeper তৈরির এই সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী ও কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পরিকল্পনার অগ্রগতি
Ministry of Defence (MoD) জানিয়েছে, এই প্রকল্পটি খুব শীঘ্রই Defence Acquisition Council (DAC)-এর অনুমোদনের জন্য আনা হবে। একবার ছাড়পত্র মিললে, এগুলি সম্পূর্ণরূপে ভারতের মধ্যেই তৈরি হবে — ‘Aatmanirbhar Bharat’-এর বড় দৃষ্টান্ত হিসাবে।
Goa Shipyard Limited (GSL) এবং Cochin Shipyard-এর মত সরকারি শিপইয়ার্ড এই প্রকল্পে মূল ভূমিকা নিতে পারে। পাশাপাশি, বিদেশি টেকনোলজি পার্টনারদের সহযোগিতায় অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ট্রান্সফারও হবে। এতে দেশীয় জাহাজ নির্মাণ শিল্পের ক্ষমতাও অনেক গুণ বাড়বে।
এই জাহাজগুলির বিশেষত্ব কী?
এই Minesweeper গুলো থাকবে একেবারে হাই-টেক। ব্যবহার হবে উন্নত Sonar System, যা জলের গভীরে থাকা মাইন চিহ্নিত করতে পারবে। এছাড়াও, থাকবে Remote-Controlled Mine Disposal Devices, যা দূর থেকে বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয় করতে পারবে। এরা হবে দ্রুতগতি সম্পন্ন ও নির্ভুল, যাতে বিপদ চিহ্নিত করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া যায়।
এই প্রকল্প একদিকে যেমন ভারতের নৌবাহিনীর কৌশলগত শক্তি বাড়াবে, অন্যদিকে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প এবং অর্থনীতির উন্নয়ন ঘটাবে। তৈরি হবে নতুন কর্মসংস্থান, উন্নত হবে প্রযুক্তি, ও আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এক ধাপ এগিয়ে যাবে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের এই পদক্ষেপ তাকে Indian Ocean ক্ষেত্রে এক শক্তিশালী সামুদ্রিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।
₹৪৪,০০০ কোটির Minesweeper প্রকল্প শুধুমাত্র নৌশক্তি বৃদ্ধির দিক থেকে নয়, ‘Make in India’-এর আদর্শ উদাহরণ হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ। সমুদ্রপথে আরও নিরাপত্তা, দেশীয় শিল্পে নতুন দিশা ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে দৃঢ় অবস্থান — সব মিলিয়ে এটি ভারতের প্রতিরক্ষার দিক থেকে এক যুগান্তকারী উদ্যোগ।